মহান বিজয় দিবস ২০১৪ উদযাপন উপলক্ষে কানাডার অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২১শে ডিসেম্বর, রবিবার সন্ধ্যায় রিচলিউ অটোয়ার ভ্যানিয়ার কমিউনিটি সেন্টারে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার কামরুল আহসান। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে সকলকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আমদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তুলে ধরা আমাদের সকলের কর্তব্য।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অটোয়া ও মন্ট্রিয়লের শিল্পীবৃন্দ '৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু ১৯৭১ -এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহকে গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্য দিয়ে তুলে ধরেন। একে একে পরিবেশিত হয় "আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি", "আমায় গেঁথে দাওনা মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা", "কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট", "এই শিকল পরা ছল", "জয় বাংলা বাংলার জয়", "তীর হারা এই ঢেউএর সাগর পাড়ি দিব রে", "মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি", "সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা, সোনা নয় তত খাঁটি", "হায়রে কিষাণ তোদের এই শীর্ণ দেহ দেখে যে আর মন মানে না", "জাগো নারী জাগো বহ্নি শিখা", "এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার আকাশে রক্তিম সূর্য আনলে যারা", "ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা" এবং "ধন-ধান্য-পুস্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা" গানগুলো। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত "কোন এক মা কে", '৭০ এর প্রলয়ন্করী ঘুর্ণিঝড়ের প্রেক্ষাপটে রচিত "সফেদ পাঞ্জাবী" এবং ১৯৭১ এর ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের প্রেক্ষিত বর্ণনায় "স্বাধীনতা শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো" কবিতাটি আবৃত্তি করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ফাহমিদা খাতুন। মূল অনুষ্ঠানের পর সকলের অনুরোধে তিনি পরিবেশন করেন "সার্থক জন্ম আমার জন্মেছি এই দেশে, সার্থক জন্ম মাগো তোমায় ভালোবেসে" গানটি। পরিশেষে ফাহমিদা খাতুনের আহবানে শিল্পী-দর্শক-শ্রোতা সকলের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি" গাওয়ার মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাউন্সিলর ইশরাত আহমেদ এবং প্রথম সচিব দেওয়ান মাহমুদ। সঙ্গীত পরিবেশন করেন অং সুই থোয়াই, নার্গিস আক্তার রুবি, মাইনুল আহসান, সিতারা জেবীন কঙ্কন, মমতা দত্ত, ফারজানা মাওলা অজন্তা, শারমিন সিদ্দীক শামা, দেওয়ান মাহমুদ, আরেফিন কবীর ও মেজবাহ আলম অর্ঘ্য। বাঁশী ও তবলা বাজিয়েছেন যথাক্রমে শাহীন মাহমুদ ও সাদী রোজারিও। গীটার বাজিয়েছেন আরেফিন কবীর। আবৃত্তি করেন মাসুদুর রহমান, আফাজউদ্দিন তোতন এবং সাদিকা পারভীন চন্দনা। এর আগে, ১৬ই ডিসেম্বর সকালে বাংলাদেশ হাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন হাই কমিশনার কামরুল আহসান। বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনীতিক ও স্টাফ মেম্বারবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।