দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার মুদি, নাপিত, পানবিড়ি দোকানী ছাড়াও অযোগ্যদের কাছে বিক্রির জন্য জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ী না হয়েও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসায়ী সেজে সিংহভাগ কয়লা বরাদ্দ পেয়েছেন ঐসব ব্যক্তিরা।
জানা যায়, খনি কর্তৃপক্ষ গত ১৫ ডিসেম্বর কয়লা বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে ক্রেতাদের ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবেশ ছাড়পত্র চাওয়া হয়। তবে আয়কর সনদ ও ভ্যাট সনদ চাওয়া হয়নি। এ কারণে খনি এলাকার আশপাশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহের হিড়িক পড়ে যায়। এতে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২১ ডিসেম্বর দুপুর পর্যন্ত চারদিনে প্রায় ৩ হাজার ট্রেড লাইসেন্স বিক্রি হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে। ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই ‘ব্যবসায়ী’ সেজে কয়লার বরাদ্দ পেয়েছেন তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খনির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ইটভাটা কিংবা বয়লার চালিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, এবার কয়লা বিক্রি করা হচ্ছে খনি এলাকাসহ রংপুরের কিছু এলাকার পানবিড়ি, মুদি, নাপিতসহ চা-বিস্কুট দোকানীদের কাছে।
এর আগে কয়লা বিক্রির বিজ্ঞপ্তিতে হালনাগাদ আয়কর ও ভ্যান নিবন্ধনধারী শুধুমাত্র ইটভাটা মালিক ও বয়লার চালিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন চাওয়া হতো। সেখানে শুধুমাত্র ‘ট্রেড লাইসেন্সধারীদের’ কয়লা বরাদ্দ পাওয়ার কোন সুযোগ ছিল না। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে এবার শুধুমাত্র কয়লা বাণিজ্যের জন্যই আগের সকল শর্ত তুলে দিয়ে শুধু ‘ট্রেড লাইসেন্স’ চাওয়া হয়। তবে ইটভাটা ও বয়লার চালিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছে চাওয়া হয়েছিল পরিবেশ ছাড়পত্র। ফলে ইটভাটা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
কয়েকজন ইটভাটার মালিক অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে রাতারাতি কিছু লোকের কাছে ১০০ টন করে কয়লা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
কয়লা বিক্রয় বিজ্ঞপ্তি আহ্বানকারি উপ-মহাব্যবস্থাপক-ডিজিএম (অর্থ ও হিসাব) শরিফুল আলম বলেন, বিজ্ঞপ্তিতে শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স চাওয়া হয়েছে। ইটভাটার ছাড়পত্র না থাকায় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
খনি মহাব্যবস্থাপক-জিএম (প্রশাসন) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে কথা বললে তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে খনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ আমিনুজ্জামানের মোবাইলে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।