তীব্র শীতে খালি পায়ে র‌্যাবক্যাম্পে আটক দরিদ্র মা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে সাইদুল ইসলাম (২৪) ও তার মা আনোয়ারা বেগমকেও (৫৫) আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তাঁর গ্রামের বাড়ি দৌলতপুরের বিলগাথুয়া গ্রাম থেকে আটক করা হয়। ওই বাড়ি থেকে অপহৃত ছাত্রীকে (১৮) উদ্ধার করে র‌্যাব। সাইদুল মৃত বায়েজিদ মণ্ডলের ছেলে। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া র‌্যাব ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে মা ও ছেলেকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় আনোয়ারা বেগম খালি পায়ে, তীব্র শীতে কাঁপছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া র‌্যাব-১২ ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কমান্ডার আলী হায়দার চৌধুরী সাইদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ বর্ণনা করেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “গাজীপুর জেলার সফিপুরে একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে কর্মরত পরিচয় দিয়ে সাইদুল ১ ডিসেম্বর কালিয়াকৈরে বাসা ভাড়া নেন। এক সপ্তাহের মধ্যে ওই বাড়ির মালিকের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২১ ডিসেম্বর মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে ট্রেনযোগে পাবনার ঈশ্বরদী আসেন। পরে সাইদুল দৌলতপুর উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের মজিদ ভান্ডারীর বাড়িতে যান। সেখানে ওই মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে একটি সোনার চেইন, মুঠোফোন ও দুই হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। একপর্যায়ে বাবার কাছে টাকা চাইতে মেয়েটির ওপর নির্যাতন করতে থাকেন। এরই মধ্যে মেয়ের বাবা ২৩ ডিসেম্বর কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ২৫ ডিসেম্বর সাইদুল মুঠোফোনে ওই ছাত্রীর বড় ভাইয়ের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। অভিযোগ পেয়ে র‌্যাব ২৫ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়।“
সংবাদ সম্মেলনে সাইদুল সাংবাদিকদের জানান, ওই ছাত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক। মেয়েটির ইচ্ছাতেই তিনি (সাইদুল) তাঁকে বাড়ি নিয়ে আসেন। তার দাবি ছাত্রীটি তার স্ত্রী। সাংবাদিকেরা ওই ছাত্রী ও তাঁর পরিবারের কারও বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে র‌্যার অধিনায়ক বলেন, “মেয়েটি বক্তব্য দিতে রাজি না”।