নতুন পাসপোর্ট ইস্যু বা নবায়নের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কর্তন শুরু হয়েছে। রবিবার থেকে ইস্যু বা নবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক এ টাকা আদায় শুরু করেছে। ৩ হাজার টাকার ফি’র ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হিসাবে বাড়তি সাড়ে ৪শ’ টাকা এবং ৬ হাজার টাকার ক্ষেত্রে বাড়তি ৯শ’ টাকা ভ্যাট হিসেবে আদায় করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আইনগত দিক তুলে ধরে ভ্যাট আদায়ের নির্দেশনা জারি করে।
এদিকে হঠাত্ করে বাড়তি এ অর্থ নেয়ায় অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে জানা গেছে। বাড়তি এ অর্থ নেয়ার কথা তারা আগে থেকে জানতেন না। ফলে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে আসা অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাসপোর্ট ইস্যু বা নবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভ্যাট কর্তন হবে কি না তা নিয়ে পাসপোর্ট অফিসগুলো দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে। এ বিষয়ে এনবিআরের কাছে দেশের বিভিন্ন ভ্যাট কমিশনার থেকেও নির্দেশনা চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যমান ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনে পাসপোর্ট ইস্যু বা নবায়নকে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হয় নি। সেই বিবেচনায় পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ভ্যাট বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে আইনি ব্যাখ্যাও তুলে ধরে পাসপোর্ট অফিসগুলোকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কর্তনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, ঢাকায় তিনটিসহ সারাদেশে বর্তমানে ৬৭টি পাসপোর্ট অফিস রয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশি মিশন থেকেও পাসপোর্ট ইস্যু এবং নবায়ন করা হয়। দেশের এসব পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন প্রয় ১৬ হাজার পাসপোর্ট আবেদন জমা, ইস্যু ও নবায়ন করা হয়। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশি মিশনে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার আবেদন জমা, ইস্যু ও নবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। আগে রাষ্ট্রায়াত্ত সোনালী ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া হতো। বর্তমানে আরো পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া যায়। এসব ব্যাংক গতকাল থেকেই ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কর্তন শুরু করেছে।