বিপিএলেই শুভাগত হোমের মারকাটারি ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখেছিল গোটা বাংলাদেশ। বিপিএলের পর ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ টি-২০ টুর্নামেন্টেও ২২ গজে শুভাগতর ব্যাটে চলছে বিদ্যুত্ নাচন। দর্শকখরার টুর্নামেন্টে বিস্ফোরক ব্যাটিং উপহার দিচ্ছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। গত সোমবার ফতুল্লায় ১০ বলে ৩২ রান করেছিলেন তিনি। গতকাল আরও এক কাঠি সরেস তার ব্যাট।
এদিন টি-২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি করেছেন শুভাগত। মিরপুর স্টেডিয়ামে মোহামেডানের বিপক্ষে ১৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। এর আগে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের চ্যালেঞ্জ সিরিজে মুমিনুল হক ১৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। ‘এ’ দলের হয়ে মুমিনুলের সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন শুভাগত। অবশ্য বাংলাদেশের মাটিতে ১৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি আছে আহমেদ শেহজাদের। মিরপুরেই ২০১২ সালে বিপিএলের প্রথম আসরে বরিশাল বার্নার্সের হয়ে ১৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানি ওপেনার।
শুভাগতর এমন আগ্নেয় প্রহারে ভর করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-২০ টুর্নামেন্টে সবার আগে সেমিফাইনালে উঠে গেছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। মিরপুরে গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে মোহামেডানকে ২২ রানে পরাজিত করেছে শাইনপুকুর। ‘সি’ গ্রুপ থেকে টানা দুই জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ক্লাবটি। ‘এ’ গ্রুপের দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৪৭ রানে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
মিরপুরে আগে ব্যাট করে তৌহিদ হূদয় ও অধিনায়ক শুভাগত হোমের হাফ সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ১৯২ রান করেছিল শাইনপুকুর। ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহামেডানের বোলারদের রীতিমতো কচুকাটা করেছেন শুভাগত। চারটি চার ও ছয়টি ছক্কায় ১৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রান করেছেন তিনি। তৌহিদ হূদয় ৪১ বলে অপরাজিত ৬৬ রান (৪ চার, ৪ ছয়) করেছেন। রাকিব ২২, আফিফ হোসেন ২৫ রান করেন। মোহামেডানের কাজী অনিক ৪ ওভারে ৬২, আলাউদ্দিন বাবু ৪ ওভারে ৪৫ রান দিয়েছেন।
পরে বিশাল টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে পেরে উঠেনি মোহামেডান। নয় উইকেটে ১৭০ রান তুলতে পেরেছিল দলটি। যা কিছু লড়াই করেছেন ইরফান শুক্কুর। ২৯ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। আব্দুল মজিদ ৩৩, আশরাফুল ২১, অভিষেক মিত্র ১৯, রকিবুল ১৬ রান করেন। শাইনপুকুরের সোহরাওয়ার্দী শুভ, সুজন হাওলাদার, হামিদুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন।
দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে চার উইকেটে ১৬৯ রান সংগ্রহ করেছিল প্রাইম ব্যাংক। রুবেল মিয়া ৪৪ রান, আরিফুল হক ৩৩ বলে অপরাজিত ৫৯ রান (৪ চার, ২ ছয়), নাজমুল মিলন ২১ বলে অপরাজিত ৪৫ রান (১ চার, ৪ ছয়) করেন। জবাবে আট উইকেটে ১২২ রানের বেশি যেতে পারেনি ব্রাদার্স। ফজলে মাহমুদ ৩৯, শরীফুল ১৫, জুনায়েদ ১৪ রান করেন। প্রাইম ব্যাংকের মনির হোসেন তিনটি, রাজ্জাক দুটি করে উইকেট। টানা দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল ব্রাদার্স। ‘এ’ গ্রুপে আবাহনী, প্রাইম ব্যাংকের জয় একটি করে। আজ এই দুদলের ম্যাচে জয়ী দলই যাবে সেমিতে।