মুন্সীগঞ্জ এমএস গ্রুপ নামের একটি কোম্পানি ইন্টার্নেটের বিজ্ঞাপন দিয়ে কানাডা পাঠানোর নামে নেপালে নিয়ে নির্যাতন করে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় মোজাম্মেল হক দেওয়ানকে সিরাজদিখান থেকে আটক করেছে। তিনি গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়ার জামালপুর গ্রামের আব্দুল বারেক দেওয়ানের পুত্র। সিরাজদিখান থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান রাতে জানান, এই ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
ভুক্তভোগী জাহিদ হোসেন পরশ বলেন, কানাডা পরিবর্তে বাংলাদেশ এ্যারলাইন্সে করে আমাদের প্রথমে নেপালের ন্যাটরাজ হোটেলে ওঠায়। সেখান থেকে পরের দিন ভারতের শিলিগুরির কাছাকাছি জায়গায় একটি হোটেলে নিয়ে হাতা পা বেধে ৩০ জনকে রড, লাঠি বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে বেধে নির্যাতন করে। মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে একটি কাগজে কানাডায় আছি, কানাডার সিসকো ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানীর লোকজন আমাদের নিতে এসেছে, আমাদের বেতন ৩ হাজার ডলার এসব মিথ্যা কথা লেখা কাগজ দিয়ে আমাদের সবার বাড়িতে ফোন করে এসব কথা বলতে বলে টাকা দিয়ে দিতে বলে। পরে স্বজনরা জমি, স্বর্ণ বিক্রি করে এবং ঋণ টাকা পরিশোধ করে। টাকা আদায় করে পরের দিন ছেড়ে দিয়ে ইন্ডিয়া হয়ে বাংলাদেশে চলে আসতে বলে সাথে ভাড়া হিসাব করে আমাদের ৩০ জনকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে দেয়।
পুলিশ ও ভূক্তাভোগীরা জানায়, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের আসাদ মাস্টারের ছেলে মো. আসিক শেখ, সিরাজদিখান উপজেলার গুযাখোলা গ্রামের মোঃ মোস্তফা সেখের ছেলে মো. নাছির উদ্দিন, শ্রনিগর উপজেরার বাঘড়া গ্রামের হাজী জমসের খার ছেলে মোঃ তারেক, মাদারীপুর জেরার কালকিনী থানার পান্তাপাড়া গ্রামের হাবিব খার ছেলে মোঃ আজম খান,নোয়াখলী জেলার চাটখালী উপজেরার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে ইমরান হাসেন, নোয়াখলী জেলার চাটখালী উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে আব্দুল আল মামুন, জাহিদ হোসেন পরশ, ইমরান হোসেন, শ্রীনগর উপজেরার উত্তর বারাসুর গ্রামের মৃত হাতেম মৃধার ছেলে মোশারফ হোসেন মৃধা, মাদারীপুর জেরার কালকিনী থানার নজরুর ইসলাম ও নরসিংদী সদরের বিলাশদী গ্রামের শাখাওয়াত হোসেন মোল্লার (নান্নু মোল্লার) ছেলে শাহেদুল ইসলাম মোল্লার কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাত করে।