প্রথম ৫ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ১৪৩৮ কোটি টাকা

 
 
 
 
চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাসে ৪৯ হাজার ২০৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা। অর্থাত্, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কমেছে ১ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা। অবশ্য গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আদায় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ হারে। যদিও চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিরাজমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে রাজস্ব আদায়ে গতি বাড়বে না। ফলে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না হওয়ার আশংকা রয়েছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা অজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, এ বছর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্বাধীনতার পর কোনো বছরই রাজস্ব আদায় ২৪ শতাংশ হারে বাড়েনি। বাস্তবতা বিবেচনায় এবারও তা অর্জনের সম্ভাবনা ক্ষীণ।
অবশ্য সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেছেন, রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।
গত বাজেটে অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছরে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। আর গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার কিছু বেশি। গত পাঁচ মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই সময়ে শুল্ক ও আয়কর আদায়ে প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন হলেও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায়ে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি কমে গেছে। এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে মানুষের ভোগ ব্যয়ে। অন্য দিকে, মোবাইল ফোন অপারেটর, সিগারেট কোম্পানিসহ ভ্যাটের বড় খাত থেকেও কাঙ্খিত পরিমাণে ভ্যাট আসছে না।
এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, বাকি ৭ মাসে রাজস্ব আদায় করতে হবে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি বা ৬৮ শতাংশ আদায় করতে হবে। আর ৫ মাসে আদায় হয়েছে মোট রাজস্বের প্রায় ৩২ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভ্যাট আদায় বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে, শুল্ক ও আয়কর আদায় বেড়েছে যথাক্রমে সোয়া ১১ শতাংশ ও সাড়ে ১৩ শতাংশ।