২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৮৫ শতাংশ

 
 
 
 
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. স্বপন কুমার বালা বলেছেন, ২০১৪ সালে ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ৬ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। যা আগের বছর ছিল ৩ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। অর্থাত্, এ বছর ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৮৫ শতাংশ। বাজারের দিকে আকৃষ্ট হয়েই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসছেন। বুধবার ডিএসই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ২০১৪ সালে ডিএসইর কার্যক্রম মূল্যায়নে এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এতে ডিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার একে জিয়াউল হাসান ও মার্কেটিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সামিউল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, ২০১৪ সালে ডিমিউচুয়ালাইজেশন ও স্বয়ংক্রিয় লেনদেন চালু হওয়া ডিএসইর অনেক বড় সংস্কারমূলক কাজ। ডিমিউচুয়ালাইজেশন হয়ে গেলেও এখনো কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারণ ও  শেয়ার দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর স্বয়ংক্রিয় লেনদেন চালু করা হলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো এর পুরো সুবিধা পাচ্ছেন না। তবে এ সফটওয়্যারে কোনো কারগরি ত্রুটি ধরা পড়েনি। তাই স্বয়ংক্রিয় লেনদেনের আরো সুবিধা যেন বিনিয়োগকারীরা পান তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। খুব শিগগির বিনিয়োগকারীরা সরাসরি ট্রেড করতে পারবেন। এ ছাড়া, বাজারে নতুন নতুন পণ্য আনার ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে। ডিএসইর এমডি আরও বলেন, ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেটের (ওটিসি) উন্নয়নে ডিএসই কাজ করবে। এ জন্য সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি সিস্টেম (সিডিএস) প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ছাড়া, বাজারে ভালো ও মৌল ভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি আসার ব্যাপারে ডিএসই পরিকল্পিতভাবে কাজ করবে। এ বছর ২০টি কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে মূলধন তোলার অনুমোদন পেয়েছে। এরই মধ্যে ১৭টি কোম্পানি লিস্টিংয়ের মাধ্যমে ১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। ২০১৪ সালে বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৬১ হাজার কোটি টাকা। জিডিপির অনুপাতে ডিএসইর বাজার মূলধন ২৪ শতাংশ। এ সময়ে ব্রড ইনডেক্স বেড়েছে ১৪ শতাংশ। এ ছাড়া শরিয়াহ ইনডেক্স বেড়েছে ২২ শতাংশ। সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৭ দশমিক ১৭ থেকে  বেড়ে ১৭ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
হাওলা ও লাগা চার্জ বিষয়ে ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, হাওলা ও লাগা চার্জ বিষয়ে এখনো স্টেকহোল্ডারদের কিছু দাবি রয়েছে। এ ছাড়া, এ চার্জ নির্ধারণে ডিএসইর সাথে সিএসইর কিছুটা অসামঞ্জস্য রয়েছে। এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীসহ সব দিক চিন্তা করেই ডিএসই কাজ করবে।