সুনামগঞ্জের তিন উপজেলাকে হাওর এলাকা ঘোষণার দাবি

হাওর, দ্বীপ অথবা চর উপজেলা হিসেবে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়া উপজেলাগুলোকে যুক্ত করার দাবিতে সিলেট নগরীতে মানববন্ধন করেছে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা। গত সোমবার বিকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাইসহ হাওরাঞ্চলের কয়েকটি উপজেলার নাম যুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাইয়ের মত হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া উপজেলাগুলো সরকারি তালিকা থেকে বাদ পড়া বিস্ময়কর। অবিলম্বে প্রজ্ঞাপনটি সংশোধন করে হাওরাঞ্চলের বাদ পড়া উপজেলাগুলোকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, সরকারি তালিকা থেকে কিভাবে উল্লেখিত সুনামগঞ্জের হাওর উপজেলা বাদ পড়ে গেলো বোধগম্য নয়। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা সভাপতি কাসমির রেজার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সমপাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সিলেটে বসবাসরত হাওর এলাকার জনগণ ও সিলেটের সুধীমহল উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, সিলেটস্থ তাহিরপুর সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী হায়দার, সিলেটস্থ জামালগঞ্জ ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন সরকার, সিলেটস্থ সুনামগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বাবর, সুজন সিলেট শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, তাহিরপুর ছাত্র কল্যাণ পরিষদ, দিরাই ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত তালুকদার, আর সি এর উপদেষ্টা সজীব আহমদ সজল, সুরভি সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি শিরিন চৌধুরী প্রমুখ।

উল্ল্যেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। প্রজ্ঞাপনে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুত্ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে পার্বত্য অঞ্চল বহির্ভূত ১৬টি উপজেলাকে হাওর/দ্বীপ/চর এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। উপজেলাগুলো হলো- কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, নোয়াখালীর হাতিয়া, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজিবপুর, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, ভোলার মনপুরা। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, শাল্লা ও দোয়ারাবাজার এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও নেত্রকোনার খালিয়াজুরী হাওর-দ্বীপ-চর উপজেলার মধ্যে পড়েছে।