শিবচরের মানুষ ২০১৪ সালটি চাইলেও মন থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। চোখের সামনে পদ্মায় পিনাক-৬ লঞ্চডুবি, নারী-পুরুষের বাঁচার চেষ্টা ও একের পর নিহত মানুষের লাশ উদ্ধারের ঘটনা অনেকদিন মনে থাকবে এ এলাকার মানুষের। সময়টা ছিল ৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টা। ঈদের ছুটি সবে মাত্র শেষ। ঘটনার দিন শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটে ঢাকায় ফেরার প্রতিযোগিতা চলছিল। দক্ষিণাঞ্চল থেকে বাস-মাইক্রোবাসে করে যাত্রীরা আসেন কাওড়াকান্দি ঘাটে। সেখান থেকে এক প্রকার প্রতিযোগিতা করে নিজের জায়গা করে নিতে হয় লঞ্চ, ফেরি, স্পিডবোটে। যাত্রীরাও আগে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে ছোট্ট লঞ্চ পিনাক-৬ কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে ছেড়ে কোনো মতে পৌছায় মূল নদীতে। কিন্তু মাঝ পদ্মায় স্রোত আর ঢেউয়ের কাছে পরাজিত হয় লঞ্চটি। আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবতে থাকে গভীর পদ্মায়। মাত্র ৫১ সেকেন্ডেই ডুবে যায় লঞ্চটি। প্রাণ বাঁচাতে পদ্মায় ঝাঁপিয়ে পড়েন অনেকে। লঞ্চ ডুবতে দেখে দ্রুত মাওয়া পাড় থেকে ছুটে আসে স্পিডবোট। প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয় শ’ খানেক মানুষের। সাঁতরে তীরে উঠে অনেকে। কিন্তু বেশির ভাগ যাত্রীই তীরে উঠতে পারেনি। নারী ও শিশুদের নিয়ে পদ্মায় ডুবে যায় পিনাক-৬।
এক দিন পর ভাসতে থাকে নিখোঁজ যাত্রীদের লাশ। স্বজন হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে উঠে পদ্মার পাড়। ঘরে ঘরে চলতে থাকে শোকের মাতম।