রাজশাহীতে সংঘর্ষে নিহত ১, মঙ্গলবার বিএনপির হরতাল

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূতি উপলক্ষে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে রাজশাহীর পুঠিয়ায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির ব্যাপক সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থানীয় চৈতালী ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ (৪২) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৫ পুলিশসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বিএনপি দাবি করেছে আবদুল মজিদ বিএনপির কর্মী এবং তিনি পুলিশের গুলিতেই নিহত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার হরতাল কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।
তবে রাজশাহীর পুলিশ সুপার আলমগীর কবির নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেছেন আবদুল মজিদ ঠিক কার গুলিতে নিহত হয়েছেন তা নিশ্চিত নয়। সংঘর্ষের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরাও গুলিবর্ষণ করেছে। পুলিশ শুধু রাবার বুলেট, টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। 
জানা গেছে, আহতদের মধ্যে চারঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ চাদও রয়েছেন। তার পায়ে রাবার বুলেটের গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।  
এদিকে, রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালি পৌর সদরে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনকে লক্ষ্য করে হাতবোমা ছুড়েছে শিবিরকর্মীরা। সোমবার দুপুর একটার এই ঘটনায় হাতবোমা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় কেউ হতাহত হয়নি। 
নগরীর মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন ইত্তেফাককে জানান, সমাবেশের বাইরে থেকে বোমা নিক্ষেপ করে পালানোর সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ছাত্রশিবির কর্মীকে আটকের পর গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে। এরা হলেন- শাকিল হোসেন ও শাকিল আহমেদ। তাদের থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 
ওসি জানান, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন সোমবার দুপুর একটার দিকে পবা উপজেলার কাটাখালি পৌর বাজারের সমাবেশে বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার পরপরই তার দিকে দুইটি হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু বোমা দু’টি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মঞ্চের পাশে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্যকে ঘিরে ধরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আয়েন উদ্দিন বলেন, হামলার আশঙ্কা আমরা আগেই করেছিলাম। এ কারণে সমাবেশের আশেপাশে আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সকাল থেকে পাহারায় ছিলেন। ফলে হামলাকারীরা বোমা নিক্ষেপের পর পালাতে পারেনি।