ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)র মিছিলে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল রবিবার সকালের দিকে দুইদল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৪০০ জন আহত হয়েছেন। পাঁচ ঘন্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষ থামাতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ। পরে ডেকে আনা হয় ১০ প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, ডিবি পুলিশ ও দুই প্লাটুন বিজিবি। তারা ৭৮ রাউন্ড টিয়ারসেল ও ৫৯০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে বিকাল চারটায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
গুরুতর আহত অন্তত ৫০জনকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদের জেলা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে পুলিশ ও সাংবাদিক রয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উভয় পক্ষের ২৫ জনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত আনন্দ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আশুগঞ্জ পূর্ববাজার থেকে ফেরার পথে তাবলীগ জামাত সমর্থিত আশুগঞ্জ পূর্ববাজার বড় মসজিদ সংলগ্ন জামিয়া ইসলামিয়া এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসা থেকে মিছিলকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। একটি গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলার চরচারতলা ও সোহাগপুর গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে নেমে পড়ে। দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো আশুগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল আধা ঘন্টা। সংঘর্ষে অংশ নেয়া দুইটি পক্ষের লোকজন মাদ্রাসাসহ বাজারের বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নিয়ে ইট-পাটকেল, বল্লম, গুলতি, বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে।
এব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবু জাফর জানান, মিছিলে ইট-পাটকেল নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় ৫২জনের নাম উল্লেখ করে ও ১০ হাজার লোককে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উত্তেজনা থাকায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল দিচ্ছে।