খেলনা পিস্তল ও পটকা দিয়ে বিমান ছিনতাই করার ভয় দেখিয়েছিল পলাশ। বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি গত রবিবার বিকাল ৫টা ১৩ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কিছুক্ষণ আগে বিমানের মধ্যেই পরপর দুটি পটকার বিস্ফোরণ ঘটায় পলাশ। এতে পাইলট, ক্রু ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বিমানের কোনো ক্ষতি হয়নি। অন্যদিকে, পটকা ফাটালেও পিস্তল দিয়ে শুধু ভয় দেখিয়েছিল পলাশ। তবে সেটি আসল না নকল ছিল, সেটা তাত্ক্ষণিকভাবে কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব ছিল না। পরে যাচাই বাছাইয়ের পর সেটিকে খেলনা পিস্তল বলে নিশ্চিত করেছেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা। এদিকে, বিমান ছিনতাই নাটক অবসানের পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত আলামতগুলো গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। অবশ্য রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত আলামত বুঝে পাননি বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া।
এ ঘটনায় বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে নগরীর পতেঙ্গা থানায় মামলা করেছেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং বিমান নিরাপত্তা বিরোধী অপরাধ দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলায় মো. পলাশ আহমেদসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরকে আসামি করা হয়েছে।
দেবব্রত সরকার ইত্তেফাককে জানান, পিস্তলটি খেলনা হলেও তা দেখতে অবিকল আসল পিস্তলের মতোই ছিল। সেটা দেখানোর পর বিমানের আরোহীরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। ওই পিস্তল দিয়ে সে বিমানের একজন ক্রুর গায়ে আঘাত করেছিল বলে জানতে পেরেছি। বোমা ও পিস্তল নিয়ে সে কেমন করে বিমানে উঠল সেটা বুঝতে পারছি না।
র্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, পিস্তলটি উদ্ধারের পর সেটাকে আসল বলেই মনে হয়েছিল। পিস্তলসহ সব আলামত সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পিস্তলটি আসল ছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার বিষয় ছিল। পরে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনি অতিক্রম করে একজন যাত্রী বোমা ও অস্ত্রসদৃশ বস্তু নিয়ে কীভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের আরোহী হলেন, এক্ষেত্রে কারো গাফিলতি বা কর্তব্যে অবহেলা ছিল কিনা কিংবা এই কাজে কে বা কারা তাকে সহযোগিতা করেছে কিনা, সবকিছুই তদন্তের মাধ্যমে বের হয়ে আসবে। বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টার ঘটনায় নিহত পলাশ আহমেদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল ভোর ৩টায় তার পিতা পিয়ার জাহান সরদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিজ বাড়িতে দাফন পলাশের
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ জানান, গতকাল সকাল ৯টায় সোনারগাঁয়ের পিরোজপুরের দুধঘাটায় নিজ বাড়ির পাশে পলাশকে দাফন করা হয়। পলাশের বাবা পিয়ার জাহান বলেন, তার লাশ গ্রহণ করার আমার কোনো ইচ্ছে ছিল না। প্রশাসন আমাদেরকে ডাকায় গত সোমবার রাতে আমি তার লাশ নিতে চট্টগ্রামে যাই।