ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের মরিচপাড়া গ্রাম এখন প্রায় জনশূন্য। অজ্ঞাত রোগে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কে তারা বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছে। এদিকে, গত সোমবার রাতে উপজেলা প্রশাসন নিহতদের বাড়ির চারপাশে এক কিলোমিটার এলাকায় মানুষ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ওই এলাকার একটি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নিরাপত্তার জন্য ওই এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নিদের্শনা প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তিনি মোবাইল ফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, ঢাকা থেকে আসা মেডিক্যাল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে যদি এলাকায় মানুষ বসবাস নিরাপদ মনে করে, তাহলেই চলাচলের নিষেধাজ্ঞার আদেশ তুলে নেওয়া হবে।
জানা গেছে, অজ্ঞাত রোগে প্রথমে আক্রান্ত হন ভাণ্ডারদহ মরিচপাড়া গ্রামের ফজর আলীর ছেলে আবু তাহের (৫৫)। গত ৯ ফেব্রুয়ারি আবু তাহের মারা যান। তার মৃত্যুর ১১ দিন পর একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আবু তাহেরের জামাতা হাবিবুর রহমান (৩৫) ও তাহেরের স্ত্রী হোসনে আরা (৪৫)। এর দুইদিন পর আবু তাহেরের দুই ছেলে ইউসুফ আলী (৩০) ও মেহেদী হাসান (২৭) মারা যান।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বর্তমানে মৃত ইউসুফের স্ত্রী কোহিনূর, তার কন্যা সন্তান, শ্বশুর রবিউল ইসলামসহ চারজন।
গত সোমবার দুপুরে ঠাকুগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন শাহজাহান নেওয়াজের নেতৃত্বে একটি চিকিত্ক দল ভাণ্ডারদহ মরিচপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, কী কারণে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা আপাতত এটাকে অজ্ঞাত রোগ বলছি। তিনি বলেন, রোগটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকা থেকে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে আসবেন। আশা করি দুই-এক দিনের মধ্যে এই অজ্ঞাত রোগের কারণ বলা যাবে। রোগের লক্ষণ বিষয়ে তিনি বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রথমে প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হন। একই সাথে প্রচণ্ড মাথাব্যথা এবং গলা বসে যায়।
চিকিত্সাধীন চারজন
আশঙ্কামুক্ত
রংপুর অফিস জনায়, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন চারজন এখন আশঙ্কামুক্ত। ঢাকা থেকে আসা মেডিক্যাল টিম তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার থেকে চিকিত্সা নিচ্ছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রবিউল ইসলাম (৬০) কহিনূর বেগম (১৯) আবির হোসেন (২০) ও মাসুদা বেগম (৩০)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও এখন তারা আশঙ্কামুক্ত।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায় জানান, ঢাকা থেকে পাঁচ সদস্যের একটি টিম গত সোমবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসাপাতালে এসেছে। এর মধ্যে তিন জন ডাক্তার দুজন টেকনিশিয়ান। তারা গতকাল সকালে চিকিত্সাধীন চার রোগীর রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে তারা কিসে আক্রান্ত হয়েছে।
রংপুর সিভিল সার্জন ডাক্তার জাকিরুল ইসলাম লেলিন বলেন,প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি এনকেফা লাইটিস জাতীয় ভাইরাস হতে পারে। এ রোগে মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে রোগী মারা যায়।