চার বনদস্যুসহ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৬

গত ২৪ ঘণ্টায় তিন জেলায় পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সুন্দরবনের ৪ বনদস্যু, কুষ্টিয়ার এক মাদক বিক্রেতা ও বরিশালের এক ডাকাত সর্দার রয়েছে।

পুলিশ ও র্যাব সূত্রের বরাত দিয়ে দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার র্যাব-৮ সদস্যরা সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বনদস্যু আরিফ বাহিনীর ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এরা হলেন বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার নামার চর এলাকার আলতাপ হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার (৩০), তার ভাই রুবেল হাওলাদার (২৭), একই এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে মো. রাজু (২৪) ও আওয়াল হাওলাদারের ছেলে হালিম হাওলাদার (৩১)। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত বনদস্যুরা জানান, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের জোংড়া খাল এলাকায় তাদের অস্ত্র-গোলাবারুদ মাটিতে পুঁতে রাখা আছে। তাদের নিয়ে ওই দিন সেখানে অভিযানে গেলে আরিফ বাহিনীর অন্য সদস্যরা র্যাব সদস্যদের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এতে ওই ৪ বনদস্যু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬২ রাউন্ড বন্দুকের কার্তুজ ও ৫৪টি বন্দুকের খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে দাকোপ থানায় দু’টি মামলা করেছে। তবে নিহতদের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল বলে জানা যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোকাররম হোসেন বলেন, বনদস্যুদের লাশ গতকাল মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের জন্যে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দুই দল মাদক বিক্রেতা ও পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইমদাদ খন্দকার (৮০) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার আদাবাড়িয়া এলাকার বিলের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানায়, নিহত ইমদাদ কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার অন্তর্গত রঞ্জিতপুর গ্রামের কটা খন্দকারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার কাজীরহাট থানার ২৬ মামলার আসামি ডাকাত সর্দার মামুন (২৭) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার লতা ইউনিয়নের কাদিরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, নিহত মামুন হিজলা উপজেলার খুলন্না টেকেরহাট গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে। সে দীর্ঘদিন থেকে কাজীরহাট, হিজলা ও মুলাদী থানার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সাথে জড়িত। ২টি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিল। ঘটনাস্থল থেকে ১টি শুটারগান, ১টি পাইপগান, ২টি রামদা, ১টি মোবাইল ও কালো কাপড়ের ৬টি মুখোশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় কাজীরহাট থানার এএসআই সাগর ও কনস্টেবল হাসান আহত হয়েছেন।