যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি বাংলাদেশি কূটনীতিক

গৃহকর্মীকে নির্যাতন ও পারিশ্রমিক না দেয়ার মামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না নিউইয়র্কে বাংলাদেশের সাবেক কনসাল জেনারেল মো. মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী। গৃহকর্মী মাসুদ পারভেজ রানার মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফাহিমা তাহসিনা প্রভার করা এক আবেদন মঙ্গলবার খারিজ করে দেন নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাট্ন ফেডারেল কোর্টের বিচারক সিডনি স্টেইন। আদালতের আদেশে বলা হয়, গৃহকর্মীর চাকরি ও তত্ত্বাবধান কূটনীতিকের ব্যক্তিগত কাজ, এটা কনস্যুলারের কাজের কোন বিষয় নয়।

আদালতের সিদ্ধান্তের পর মনিরুল ইসলামের আইনজীবী কোন মন্তব্য করেননি। তবে তার মক্কেল এ অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন রানার পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া ডেচার্ট ল’ ফার্মের আইনজীবী এমিলি শেয়া। তিনি টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেন, রানা এক বছরের বেশি সময় ধরে দাসত্বের মধ্যে ছিলেন। আদালতের আদেশে তার ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। খবর:রয়টার্স।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মাসুদ পারভেজ রানা এ-থ্রি ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। তার দাবি মনিরুল ইসলাম তাকে মাসিক তিন হাজার ডলার বেতন ও ভিসা নবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। কিন্তু যাওয়ার এক-দেড় বছরের মধ্যে তাকে কোনো বেতনই দেয়া হয়নি। বরং জোরপূর্বক ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে দিনে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করিয়েছেন। বিনা পারিশ্রমিকে ‘দাসত্বের মতো পরিবেশে’ কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগে ম্যানহাট্ন ফেডারেল কোর্টে গত বছরের ২১ মার্চ মনিরুল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাসুদ পারভেজ রানা মামলা করেন। মামলায় বলা হয়েছে, রানা যাতে বাসা থেকে কোথাও যেতে না পারেন সেজন্য তার পাসপোর্ট ও ভিসা আটকে রাখা হয়। বাইরে গেলেই পুলিশ ধরে জেলে দেবে অথবা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে বলে তাকে ভয়ও দেখানো হয়। এ মামলা দায়েরের আগেই মরক্কোয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান মনিরুল ইসলাম। মামলার ঠিক পরেই ওই বছরের ২৩ মার্চ সস্ত্রীক তিনি মরক্কো যান। এখনো তিনি মরক্কোয় কর্মরত রয়েছেন।