বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন গতকাল থেকে পুলিশ পাহারায় রাজধানী থেকে বেশ কিছুসংখ্যক বাস ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। তবে অবরোধের শুরু থেকেই ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এদিকে গতকাল রেল লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৪০ জেলার ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে ৪ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্য।
সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ার-পারসনের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের কয়েকটি এলাকায় বেশ কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটে। কিন্তু রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ শহরে যানবাহন চলাচল ও জীবন যাত্রা প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল রয়েছে পুরোপুরি স্বাভাবিক। কিন্তু নাশকতার আশংকায় দূরপাল্লার বাস রাজধানী বা অন্য কোন শহর থেকে ছাড়েনি। আর দূরপাল্লার বাস না ছাড়ার কারণে চাপ পড়ে ট্রেন ও লঞ্চে। কিন্তু গতকাল বুধবার রাজধানী থেকে পুলিশ পাহারায় ছাড়তে শুরু করেছে দূরপাল্লার বাস ও পণ্য পরিবহনের গাড়ি। ফলে দুইদিন পর দূরপাল্লাগামী বাসের কাউন্টারগুলো সচল হতে শুরু করেছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, মহাসড়ক সচল ও স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি, র্যাব ও জেলা পুলিশ। কেউ নাশকতার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা করেন দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম কামাল হোসেন জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পাঠানোর ব্যাপারে মঙ্গলবার রাতে বিজিএমইএ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল পণ্যবাহী তিন’শ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান পুলিশ পাহারায় চট্টগ্রাম পৌঁছেছে। এছাড়াও ছাড়তে শুরু করেছে দূরপাল্লাগামী বাস। মহাসড়কে নিরাপত্তায় হাইওয়ে, থানা পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা সর্তক অবস্থানে রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আশা করা যায় দু’এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, রাজধানীর সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে সিলেট, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটে শতাধিক বাস ছেড়ে গেছে। একই অবস্থা মহাখালী টার্মিনালেও। তবে গাবতলী টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লাগামী বাস ছাড়ার সংখ্যা কিছুটা কম।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাওয়া গেলে পরিস্থিতি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক হবে। তিনি আরো বলেন, গত দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৬টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও বেশকিছু গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ পরিবহন নেতা ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান।
ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি বন্ধের দাবি :অবরোধ কর্মসূচির নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধের জোর দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি। গতকাল বুধবার সমিতির রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরী সভায় এ দাবী জানানো হয়। সমিতির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সম্পাদক রুস্তম আলী খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমেদ মজুমদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
তারা বলেন, এসব ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির কারণে অনেক শ্রমিকের সংসারের চাকা থেমে যাবার উপক্রম হয়েছে। পরিবহন শ্রমিকই নয়, পরিবহন মালিকদেরও একই অবস্থা। আমাদের সবার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ফলে যত রকম ঝুঁকি থাকুক আমরা গাড়ি চালাবো। রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ, দয়া করে আমাদেরকে আর জিম্মি করবেন না।
তারা আরো বলেন, গত বছর বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের কর্মসূচির সময় সহিংসতায় পরিবহন সেক্টরে ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আর এ সময় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে ৫৫ জন পরিবহন শ্রমিককে।