মাত্র আটদিন আগে টেস্ট অভিষেক হয়েছে মিথুনের। ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে শূন্য হাতে সাজঘরে ফিরে গেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ১১০ বলের মাটি কামড়ানো ইনিংস খেলে ৬৭ রান করেন মিথুন। সেই সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে দলে সুযোগ পেয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ।
অভিষেক টেস্টের মত চট্টগ্রামের প্রস্তুতি ম্যাচেও দারুণ ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেছেন মিথুন। ২৭ রান তুলতে গিয়ে বল মোকাবিলা করেছেন ৭০টি। এই পারফর্মেন্স টেস্টে কতটা আত্মবিশ্বাস জোগাবে জানতে চাইলে মিথুন বলেন, ‘ওদের বোলারদেরকে ফেস করলাম। ওদের সম্পর্কে একটা আইডিয়া হয়েছে। ব্যস ওই এতটুকুই। ওদের বিরুদ্ধে যখন টেস্ট খেলতে নামব সেটা আমাকে প্রথম বল থেকেই শুরু করতে হবে। সেটা আসলে জিরো থেকেই শুরু করার মত ব্যাপার। অনুশীলন ম্যাচ খেলে একটাই উপকার হয়েছে ওদের বোলারদেরকে ফেস করতে পারলাম। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে আত্মবিশ্বাস কিছুটা বেড়েছে কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়াটা কিন্তু আবার বিপদ বয়ে আনতে পারে। আমি আসলে চেষ্টা করছি এই দু‘টির মধ্যে ব্যালেন্স রাখতে।’
প্রস্তুতি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদেরকে কেমন দেখলেন জানতে চাইলে মিথুন বলেন, ‘ওদের পেস বোলারতো অবশ্যই ভাল। এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ওরা অবশ্যই ওয়ার্ল্ড ক্লাস বোলার। প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা তাদেরকে হয়তো কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে ফেস করতে পেরেছি। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়েছে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের ফ্ল্যাট উইকেটের কারণে।’
অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসে দুই রকম অভিজ্ঞতা ছিল। প্রথম ইনিংস ভাল হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটির পর কি আত্মবিশ্বাস কিছুটা বেড়েছে- জানতে চাইলে মিথুন বলেন, ‘দুই ইনিংসের মধ্যে আমার কাছে আলাদা কিছুই মনে হয়নি। প্রথম ইনিংসে যেভাবে নেমেছিলাম দ্বিতীয় ইনিংসেও একইভাবে নেমেছি। সবসময় সফল হতে পারব না। একটা ভাল ডেলিভারি বা আমার একটা ভুলের কারণে আউট হতেই পারি। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থতার চিন্তা মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও যদি নামতাম তাহলে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। চেষ্টা করেছি প্রথম ইনিংসে যে ব্যর্থতা ছিল সেটা মাথা থেকে সরিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে।’
জিম্বাবুয়ের সাথে খেলার পর প্রস্তুতি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের মোকাবিলা করেছেন। দুই দলের স্পিনারদের মধ্যে পার্থক্য কী পেলেন মিথুন? উত্তরে তার সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘আসলে আমিতো এতকিছু বুঝি না। আমি আগেই বলেছি পুরোটা নির্ভর করে উইকেটের ওপরে। উইকেট যদি ভাল হয় তাহলে একজন সাধারণ মানের বোলারও ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলতে পারে। আবার উইকেট যদি ফ্ল্যাট হয় তাহলে বিশ্বমানের বোলারও কিন্তু কিছুই করতে পারে না।’
আগের টেস্টগুলোতে টপ অর্ডারে দুই-তিনটা উইকেট আমাদের দ্রুত গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে টিম ম্যানেজমেন্ট কী পরিকল্পনা নিচ্ছে? জানতে চাইলে মিথুন বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি হচ্ছে আসলে কেউই চায় না খারাপ করতে। সবাই চায় নিজের পারফর্মেন্স যত ভাল করা যায়। যেখানে যার ভাল হয়নি সেখানে নিশ্চয়ই সবাই সবার কাজটা করছে। সবাই নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন। এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই কোচিং স্টাফের সাথে সবাই আলোচনা করছে।’