গাইবান্ধায় মা-মেয়েকে মারধর, ক্ষোভে মেয়ের আত্মহত্যা

গাইবান্ধার সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ধনকুটি গ্রামে প্রতিবেশীর কলাবাগানে ছাগল যাওয়াকে কেন্দ্র করে মা-মেয়েকে মারধরের ঘটনায় মানসিক আঘাত সইতে না পেরে ক্ষোভে গত সোমবার শ্রাবন্তী রানী (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শ্রাবন্তী লক্ষ্মীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ধনকুটি গ্রামের শ্রমিক গঙ্গা দাসের মেয়ে শ্রাবন্তীর একটি ছাগল প্রতিবেশী তপন চন্দ্রের কলা বাগানে যায়। কলা বাগান নষ্টের অভিযোগে ছাগলটিকে বেঁধে রাখে তপনের ছেলে লিখন। তারা শ্রাবন্তী ও তার মা দীপ্তি রানীকে নিজেদের বাড়িতে এনে মারধর করে। মা-মেয়েকে একসঙ্গে মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় মানসিক আঘাত সইতে না পেরে শ্রাবন্তী বাড়িতে এসে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে বলে দাবি পরিবারের।   এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে লক্ষ্মীপুর বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সুন্দরগঞ্জ-গাইবান্ধা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। এতে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

গাইবান্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাহাত গাওহারি জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শ্রাবন্তীর মা দীপ্তি রানী বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লিখন তার বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।