সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ নারী পুলিশসহ নিহত ৬

রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জে গতকাল রবিবার পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিন নারী পুলিশ, একজন গৃহবধূসহ ছয় জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন  ৩০ জন। এদের মধ্যে ২৯ জন নারী পুলিশ। রাজধানীর ফকিরাপুল ক্রসিং, সায়েদাবাদ ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- পুলিশ কনস্টেবল মামনি খাতুন মনিরা (২০) ও আকলিমা (২২), সেলিনা আক্তার শৈলী (২৩), সিএনজি অটোরিক্সা চালক (৪০), সিএনজি যাত্রী অজ্ঞাত যুবক (৩০) ও গৃহবধূ আক্তার (২২)।

পুলিশ জানায়, সকাল পৌনে ছয়টার দিকে  রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স থেকে মনিরা ও আকলিমাসহ ৩১ জন্য নারী পুলিশ সদস্য বাসে করে  ডিউটির উদ্দেশ্যে আব্দুল গণি রোডে অবস্থিত কন্ট্রোলরুমে যাচ্ছিলেন। এসময় ফকিরাপুল ক্রসিংয়ে একটি দ্রুতগামী মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় নারী পুলিশদের বহনকারী বাসটি উল্টে যায়। এতে ৩১ নারী পুলিশ সদস্য আহত হয়। তাদের মধ্যে মনিরা ও আকলিমাসহ  গুরুতর আহত ১১ জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক  দুইজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে ৯ জন চিকিত্সাধীন রয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অন্যরা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে। ট্রাকটির চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ট্রাকটি মতিঝিল থানায় আটক করা হয়েছে।
মনিরার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে এবং আকলিমার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। এদের মধ্যে মামনি খাতুন মনিরা ২০১৪ সালে ও আকলিমা ২০১১ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। গতকাল দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মরদেহ রাজারবাগ পুলিশ লাইনে জানাজা শেষে তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
তাদের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন স্বারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান, পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল এ কে এম শহীদুল হক, এসবি প্রধান ড. জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। এর আগে তারা আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, রাজারবাগে যান।
কেরানীগঞ্জে নারী পুলিশসহ তিনজন নিহত
বিকাল তিনটার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প এলাকায় ট্রাক-সিএনজি অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত হন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার নারী পুলিশ কনস্টেবল  সেলিনা আক্তার , সিএনজি যাত্রী অজ্ঞাত যুবক ও সিএনজি অটোরিকশা চালক।
পুলিশ জানায়, বিএনপির ডাকা অবরোধের ডিউটি করে দুপুরের খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে গতকাল সাড়ে ৩ টায় কেরানীগঞ্জের কদমতলী অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে অটোরিকশায় করে নারী পুলিশ সদস্য শৈলীসহ চার জন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার দিকে যাচ্ছিলেন। তাদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে উল্টে যায়। এতে চারজনই আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক সেলিনাসহ তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ কনস্টেবল সেলিনা আক্তারের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি  ফারুক হোসাইন, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘাতক ট্রাকটিকে পুলিশ আটক করতে পারেনি।
বাবার বাড়ি ফেরা হল না মুন্নির
সায়েদাবাদ এলাকায়  বাসের ধাক্কায় নিহত হয় গৃহবধূ মুন্নি আক্তার।  তিনি স্বামীর সঙ্গে পিরোজপুরে তার বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। নিহত মুন্নি রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় স্বামীসহ বসবাস করতেন।

নিহতের স্বামী শরিফুল ইসলাম জানান, সায়েদাবাদ বাস টর্মিনাল থেকে পিরোজপুরের বাসে উঠার জন্য ভোর ৭টার দিকে শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে বের হন তারা। পিরোজপুরে মুন্নির বাবার বাড়ি। সায়েদাবাদ পৌঁছানোর পর রেললাইন সংলগ্ন রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি বাস মুন্নিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক মুন্নিকে মৃত ঘোষণা করেন।