গত প্রায় এক মাস পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ চারশ’ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৪২১ কোটি টাকা। এরপর লেনদেনের পরিমাণ আর চারশ কোটি টাকার ঘরে আসতে পারেনি। সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪১৭ কোটি টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৩৫ শতাংশ বেশি। এদিকে গতকালও বাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে বস্ত্র খাতের প্রাধান্য ছিল। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। যা বাজারের মোট লেনদেনের সাড়ে ১৪ শতাংশ।
তথ্যে দেখা গেছে, ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪১৭ কোটি ১ লাখ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ১০৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ৩১০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৭টির, কমেছে ১৬১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টি কোম্পানির শেয়ারের।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ২১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। যা আগের কর্মদিবসের চেয়ে ৪ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২৪৯টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৮টির কমেছে ৯৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩টি কোম্পানির শেয়ারের।
এদিকে পুঁজিবাজারের লেনদেন নিষ্পত্তি ও তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) চার্জ নেওয়ার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা করবে ডিএসই।
বিশ্বের অন্যান্য দেশে ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠানগুলো লেনদেন বা সিকিউরিটিজ সংখ্যার ভিত্তিতে যে সেবা মাশুল নিয়ে থাকে, ঠিক সেভাবেই করার প্রাব দিবে ডিএসই। জানা গেছে, ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিডিবিএল লেনদেন নিষ্পত্তি, শেয়ারের বণ্টন ও স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজের বাজারমূল্যের ওপর ফি বা চার্জ নিয়ে থাকে। এছাড়া বাজারমূল্যের হিসাব ধরে শেয়ার করপোরেট এ্যাকশন, রিমেট, ডিমেট ও নতুন প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ফি নেওয়া হয়। এদিকে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো একই সেবায় শেয়ার সংখ্যার পরিবর্তে বাজারমূল্যে মাশুল আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে একই ধরনের সেবার ক্ষেত্রে শেয়ার অথবা লেনদেন সংখ্যার ভিত্তিতে মাশুল নেওয়া হয়। সিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শেয়ারের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের ওপর ০.০১৭৫ শতাংশ বা প্রতি ১০০ টাকায় ১.৭৫ পয়সা মাশুল বা ফি নিচ্ছে সিডিবিএল। ফলে শেয়ার ক্রয় ও বিক্রি বাবদ প্রতি ১০০ টাকা লেনদেনের ওপর সিডিবিএল ৩.৫ পয়সা মাশুল পাচ্ছে।