১৯ জানুয়ারির পর নতুন কৌশলের পরিকল্পনা

আগামী ১৯ জানুয়ারির পর আন্দোলনের কৌশল বদল করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। তারা কি কর্মসূচি নিয়ে তখন মাঠে থাকবে তা সরকারের ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে দলটির কয়েকজন সিনিয়র নেতা। তারা জানান, ১৮ জানুয়ারি বিশ্বইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন পর্যন্ত চলমান গতিতেই অবরোধ চালিয়ে যাবে ২০ দলীয় জোট। পরে পরিস্থিতি বুঝে আন্দোলনের কর্মসূচি পুনর্নির্ধারণ করা হবে। সে কর্মসূচি হতে পারে কঠিন অথবা পরিস্থিতানুগ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘চেয়ারপারসন জানিয়েছেন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সরকারের মনোভাব বুঝে কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনবেন বেগম জিয়া। সরকার কঠোর হলে কর্মসূচিও কঠোর হবে।’
এদিকে বেগম জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানরত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৯ জানুয়ারির পর অবরোধের সঙ্গে হরতালও যুক্ত করতে পারেন চেয়ারপারসন। পরে ’অসহযোগ’ কর্মসূচির ডাক দিতে পারেন। তবে এই ধরনের কর্মসূচি কার্যকর করার মতো পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুপস্থিত। রাজধানীতে কর্মসূচি পালনে বিএনপির ভূমিকায় সন্তুষ্ট নন তিনি। বেগম জিয়াকে কেউ কেউ পরামর্শ দিয়েছেন যেন দ্বিতীয় দফার ইজতেমায় মুসল্লি বেশে সারাদেশ থেকে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ঢাকায় আসতে আহবান জানানো হয়। তবে এই বিষয়ে তিনি গতকাল পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত জানাননি বলে জানা গেছে।
এদিকে ঢাকায় দিনের বেলা শান্ত থাকলেও রাতের আঁধারে গাড়ি পোড়ানো হচ্ছে। বিএনপি অথবা অঙ্গ সংগঠনগুলোর কোন মিছিল জমায়েত হচ্ছে এমন খবর মিলছে অতি সামান্যই। আর জামায়াত-শিবির রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে ছবি সরবরাহ করছে।
প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপার্সন এবারের আন্দোলন ঢাকা কেন্দ্রিক করার টার্গেট রেখেছিলেন। সেই লক্ষ্যে দিক-নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। ৫ জানুয়ারির আগেই ঢাকার প্রায় সব নেতাই আত্মগোপনে চলে যান। তারা ৫ জানুয়ারির সমাবেশ করতেও মাঠে নামেনি। 
আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন :খালেদা জিয়া
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে সাক্ষাত্ শেষে খালেদা জিয়ার বরাত দিয়ে একথা বলেন ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন।
খালেদা জিয়া বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন শুরু হয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছে তা সফল না হওয়া পর্যন্ত চলবে। এ আন্দোলন সফল করতেই হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই। ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন অনেক ভালো। তিনি অনেকটাই সুস্থ। সবার দোয়া চেয়েছেন।
এর আগে বেলা একটার দিকে ফরিদা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান মহিলা দলের ১০ নেত্রী। প্রসঙ্গত, বেগম খালেদা জিয়া গত দশদিন ধরে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।
গুলশান কার্যালয়ের কর্মকর্তা আটক
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীমকে আটক করেছে র্যাব, পুলিশ ও ডিবি’র একটি যৌথ বাহিনী। ধানমন্ডির শংকর এলাকা থেকে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় তাকে আটক করা হয়।
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আটক

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও নোয়াখালী সদর আসনের সাবেক এমপি মোহাম্মাদ শাহজাহান ও নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল আহমেদকে আটক করা হয়েছে। গতকাল  ভোর রাতে গুলশান-১ থেকে তাকে আটক করে র্যাব। র্যাবের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) রুম্মন মাহমুদ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সরকারবিরোধী চক্রান্ত ও নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে রবিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুকে মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ৫ জানুয়ারির সমাবেশ ঘিরে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গ্রেপ্তার হয়েছেন।