মিঠাপুকুরে বাসে আগুন: অগ্নিদগ্ধ আরো ১ জনের মৃত্যু



রংপুরের মিঠাপুকুরে বাসে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় আহত তছিরন নেছা (৫০) নামের আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তছিরন নেছা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ লাখিয়ারপাড়া গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের কন্যা।
এদিকে ঐ হামলার ঘটনায় মিঠাপুকুর থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক বাদি হয়ে জামায়াত-শিবিরের ৮৫ জনের উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মানুষ হত্যা ও জনগণের ক্ষতিসাধন করার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। এরই মধ্যে ঐ হামলায় জামায়াত-শিবিরের ১৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অপরদিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ রোগীরা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার বাতাস। মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন ওই সব রোগী। তাদের শরীরের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে গেছে। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পৃথক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে বিজিবি ও পুলিশ প্রহরায় রংপুর থেকে ২৩টি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ওই বহরের সবচেয়ে পিছনে পড়ে থাকা কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যাত্রীবাহী খলিল এন্টারপ্রাইজের (ঢাকা মেট্টো ব-১১-৬৮৬০) একটি বাস মিঠাপুকুর উপজেলার বাতাসন দুর্গাপুর এলাকায় পৌঁছুলে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা বাসটিকে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে পুরো বাসটিতে দ্রুত আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং এলাকাবাসী গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মা-পুত্রসহ ৪ জন মারা যায়। আহত হয় আরো ২৫ জন যাত্রী। এদের মধ্যে ২২ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং সেনা সদস্য নুর আলমের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম এবং ২ কন্যা সন্তান নুসরাত ও নাদিয়াকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে তছিরন নেছা ও মিনারা বেগমের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে বুধবার সন্ধ্যায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তছিরন নেছার মৃত্যু হয়।