‘পারমাণবিক বোমার ট্রিগার টিপলে উপমহাদেশের সবাই মরবে’

পাকিস্তান-ভারতে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। এতে করে যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে, কারণ দুটি দেশের কাছেই পারমাণবিক অস্ত্র আছে। এ নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘মনে হচ্ছে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। নিরপরাধ মানুষ মরুক চাই না। জঙ্গি ঘাঁটি উড়িয়ে দেওয়া হোক, ঠিক আছে। দু' দেশ যেন একটি কাজ না করে, পারমাণবিক বোমার ট্রিগার যেন না টিপে। তাহলে উপমহাদেশের সবাই কিন্তু নিশ্চিত মরবে। অন্তত ২০০ কোটি তো মরবেই।’ 

এই স্ট্যাটাসটি দেওয়ার আগে আরেকটি স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন লেখেন, ‘ভারতের মানুষ খুশি, বদলা নেওয়া গেছে। পাকিস্তানের মানুষ খুশি, ভারত কাউকে মারতে পারেনি। মানুষ খুশি থাকলেই ভালো। খুশি থাকো, মিলে মিশে থাকো। সন্ত্রাস কোরো না, মানুষ মেরো না। ভারত পাকিস্তানের মধ্যে লড়াই হলে আমার শুধু মনে হয়, ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই হচ্ছে। একসময় তো একই দেশের মানুষ ছিল। পার্টিশানটা করেই শত্রুতা বাড়ালো। ভারতকে এখন সন্ত্রাসী প্রতিবেশীদের নিয়ে বাস করতে হয়। পার্টিশান না করলে এত মুসলমান কি সন্ত্রাসী হত? একটা গণতন্ত্রের মধ্যে থাকা আর একটা ধর্মীয় দেশে থাকার মধ্যে পার্থক্য আছে না?’

আরো পড়ুন: ভারতীয় সিনেমা নিষিদ্ধ করলো পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্মস কন্ট্রোল এসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের হাতে ১৩৫টি এবং পাকিস্তানের হাতে ১৪৫টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে। অপরদিকে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক শক্তির দিক থেকে বিশ্বের ১৩৬টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান চতুর্থ। আর পাকিস্তানের অবস্থান ১৭তম।

তসলিমা নাসরিন। ছবি: সংগৃহীত

উল্লেখ্য, ভারত শাসিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার করে জঙ্গি গোষ্ঠী। এর জেরে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে পাকিস্তানের সীমা অতিক্রম করে বোমা হামলা করে ভারতের বিমান বাহিনী। এরপর দিন ভারতীয় ২ যুদ্ধ বিমানকে ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী। এছাড়া একজন পাইলটকে আটক করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ