ভ্যাট ও শুল্ক আইন যুগোপযোগী করার দাবি ব্যবসায়ীদের

 
রাজস্ব আয় বাড়াতে ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও শুল্ক আইনকে যুগোপযোগী করা, রাজস্ব বোর্ডের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আদায়কারী কর্মকর্তাদের মনোভাবেরও পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের আলোচনায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের রাজস্বে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে দেড় লাখ কোটি টাকা। ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ দিলে আগামী বছর এটি দুই লাখ কোটি টাকায় এবং কয়েক বছরের মধ্যে তা ৫ লাখ কোটি টাকায়ও উন্নীত করা সম্ভব।
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ ব্যবসায়ী ও এনবিআরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, এক সময় সরকারের রাজস্বের বড় অংশ ছিল শুল্ক। কিন্তু ধীরে ধীরে তা কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শুল্ক তো প্রায় বিদায় হয়ে যাবে। এ জন্য ভ্যাটসহ (মূল্য সংযোজন কর) অন্যখাত থেকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও বলেন, ভ্যাট আইনের মূল লক্ষ্য দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করা। সরকার ব্যবসা বান্ধব। ভ্যাট আইন নিয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করা হবে। তিনি সামপ্রতিক বছরগুলোতে দেশের রাজস্বসহ অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি তুলে ধরেন।
ড. মসিউর রহমান এনবিআরের বিভিন্ন সময় নেয়া সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শিল্প-বাণিজ্যের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটা হলে ভুলের সম্ভাবনা কমে আসবে। সেই সঙ্গে ফিসক্যাল ইকোনমি নিয়ে একটি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিওসিও) অধীনে ২০০৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী কাস্টমস দিবস পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এ সংস্থার সদস্য দেশের সংখ্যা ১৭৯টি। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা : অংশীদারি সম্পর্কের একটি আন্তরিক ব্যবস্থাপনা। অনুষ্ঠানে এনবিআরের ১৫ জন কর্মকর্তাসহ ২০ জনকে শুল্ক ব্যবস্থাপনায় অবদানের জন্য ডব্লিওসিও’র সনদ দেয়া হয়।