একক বা গ্রুপভিত্তিক ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি অংকের ঋণগ্রহীতাদের অনিয়মিত বা খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনেরর সুবিধা পেতে হলে গ্রাহককে সব ধরনের তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হবে। পুনর্গঠিত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জামানত, কোম্পানি বা গ্রুপের কর্পোরেট গ্যারান্টি, পরিচালক বা মালিকপক্ষের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি নিতে হবে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে নীতিমালাটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে।
পরে ওই প্রজ্ঞাপন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ২৭ জানুয়ারি নীতিমালাটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করে। নীতিমালায় বড় অংকের ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা কারা পাবে, কিভাবে পাবে, এ ব্যাপারে ব্যাংকের করণীয়, গ্রাাহকের করণীয়, তদারকি ব্যবস্থা, আবেদন করার প্রক্রিয়া- এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে ওই প্রজ্ঞাপনে।
প্রজ্ঞাপনের বলা হয়েছে, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যারা ৫০০ কোটি টাকা বা এর বেশি অংকের ঋণ এক বা একাধিক ব্যাংক থেকে নিয়ে নিয়মিত শোধ করতে পারছেন না বা খেলাপি হয়ে পড়েছেন, কেবল তারাই এর আওতায় ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা পাবেন। কোন গ্রাহকরে ঋণ একক বা গ্রুপভিত্তিক ৫০০ কোটি টাকা হলেও তিনি এ সুবিধা পাবেন। এ সুবিধা পেতে গ্রাহককে ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। নীতিমালার আওতায় দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সর্বোচ্চ ১২ বছর এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ সর্বোচ্চ ৬ বছরের জন্য পুনর্গঠন করা যাবে। এর আওতায় সুদের হার হবে ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ডের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ শতাংশ। এ নীতিমালার আওতায় একজন গ্রাহক একবারই কেবল সুবিধা পাবেন। বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকার কম হলে পুনর্গঠিত ঋণের ডাউন পেমেন্টের হার হবে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ এবং এর বেশি হলে ডাউন পেমেন্টের হার হবে ১ শতাংশ। এর আওতায় ঋণ পুনর্গঠন করা হলে তিন বছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কোনো নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না।