চাটমোহর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় আর বিদ্রোহী প্রার্থীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ। চেয়ারম্যান পদে ‘নৌকা’ প্রতীকে দলীয় প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকেই এই বিভক্ত দৃশ্যমান হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো। মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আ. হামিদ মাস্টার ও চাটমোহর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা আবু হায়াত কামাল মোঃ জুয়েল। এছাড়াও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আ. আলীম। এদিকে দলের তিনজন প্রভাবশালী নেতা প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে প্রচারণায় নেমেছেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন বিভক্ত দৃশ্যমান হয়। ওইদিন দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখোর মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আ. রাজ্জাক জকি, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন ধনী প্রমুখ। অপরদিকে আ. হামিদ মাস্টারের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট একেএম সামসুদ্দিন খবির, বিএমএ পাবনা জেলা সভাপতি ডা. মোঃ গোলজার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জুয়েল মির্জার মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় পৌর মেয়র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল, ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম বকুল, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, সুবিধাবাদীরাই নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলীয় সভানেত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তার বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ কোথায়। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাহবুব এলাহী বিশু বলেন, আমি নৌকার পক্ষে, তবে নৌকার যিনি প্রার্থী তার বিপক্ষে।
পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ নাজিম উদ্দিন মিয়া বলেন, নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক। কিন্তু চাটমোহরে যাকে নৌকা দেয়া হয়েছে, তার বিপক্ষে আমি। কারণ তিনি জনবিচ্ছিন্ন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আ. মান্নান সরকার বলেন, আমরা নৌকার পক্ষে। এমপি যেদিক বলবেন, সেদিকেই যাবো। তবে নৌকার বিপক্ষে নই।
চেয়ারম্যান প্রার্থী জুয়েল মির্জা বলেন, নির্বাচন করলে দল যেহেতু তিরস্কার বা বহিষ্কার করবে না। তাই নির্বাচন করছি। জনগণ নৌকার প্রার্থীকে চায় না। জনগণের চাওয়ার কারণে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাকো বলেন, নৌকা প্রতীক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারা নৌকার বিপক্ষে যাবে, তারা নেত্রীর বিপক্ষে যাচ্ছে। আশা করি কেউই নৌকার বিপক্ষে থাকবে না।