নিষেধাজ্ঞা মেনে নিচ্ছেন জয়াসুরিয়া

আকসুর তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করা ও প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগে সাবেক শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক সনাথ জয়াসুরিয়াকে দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। এই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে কোনো ধরনের পুনর্বিবেচনার আবেদন না করে ‘ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার’ কারণে এটা মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন জয়াসুরিয়া।

গত বছর খানেক ধরে শ্রীলঙ্কায় বিভিন্ন ধরনের ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ দিয়ে তদন্ত করছে আইসিসির একাধিক দল। এই তদন্তের এই পর্যায়ে, গত অক্টোবরে জয়াসুরিয়ার বিপক্ষে এই অভিযোগ গঠিত হয়। বলা হয় যে, তিনি আকসুর তদন্তে সহায়তা করতে অস্বীকার করেছেন। সেই সঙ্গে তদন্তের প্রয়োজনীয় কোনো প্রমাণ নষ্ট করা বা প্রমাণ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আছে তার বিপক্ষে।

ঘটনাটি ঘটেছিল জয়াসুরিয়ার সাক্ষাত্কার নেওয়ার এক পর্যায়ে আকসুর তদন্তকারীরা তার মোবাইলটি চেয়েছিলেন পরীক্ষা করে দেখার জন্য। কিন্তু জয়াসুরিয়া সেই মোবাইল হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানান। আকসুর দুর্নীতি বিরোধী আইন অনুযায়ী তারা সংশ্লিষ্ট যে কারো ব্যাংক অ্যাকাউন্ডের বিস্তারিত থেকে শুরু করে ফোন রেকর্ড দেখতে চাইতে পারে। সেটা দিতে ব্যর্থ হলে তার বিপক্ষে অভিযোগ গঠন করতে পারে আকসু। ফলে ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ের এই নায়কের বিপক্ষে অভিযোগ গঠিত হয়। তারপর দীর্ঘ সময় পর এই রায় দিল আকসু।

জয়াসুরিয়া এই রায়ের পর টুইটারে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি ক্রিকেট নামের এই খেলাটির প্রতি ভালোবাসার জন্য, খেলাটার বৃহত্তর ভালোর জন্য এবং ক্রিকেট খেলায় সততাকে রক্ষা করার জন্য আমার বিপক্ষে আনা এই অভিযোগ মেনে নিচ্ছি।’

জয়াসুরিয়া একই সঙ্গে বলেছেন যে, আকসুর অভিযোগই বলছে যে, তার বিপক্ষে কোনো অন্যায় করা বা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো অভিযোগ নেই। তিনি বলেছেন, ‘এই কথিত অভিযোগে বলা হয়েছে যে, আমার পক্ষে আকসুর এই তদন্তে সহায়তা করায় ব্যর্থতা ঘটেছে। তারা চাওয়া মাত্র আমি তাদের আমার সিম কার্ড ও আই ফোন সরবরাহ করিনি। এটা পরিষ্কার যে, আমার বিপক্ষে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ, ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ বা কোনো ভেতরের তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগ নেই।’

আইনে জয়াসুরিয়াকে আপিল করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি চাইলে আইসিসির এই রায়ের বিপক্ষে আবেদন করতে পারেন। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয়ে আবার একটা ক্লান্তিকর প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে রাজী নন এই বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় এবং শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক।

সবশেষে জয়াসুরিয়া বলেছেন, তিনি তার ক্রিকেটীয় জীবন অত্যন্ত সততার সঙ্গে কাটিয়েছেন। আর এভাবেই তিনি কাটাতে চান, ‘আমি এটা পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, আমি সারা জীবন অত্যন্ত উঁচু মাত্রায় সততার সঙ্গে আমার ক্রিকেটীয় জীবন কাটিয়েছি। আমি সবসময় আমার দেশ এবং ক্রিকেটপ্রেমী মানুষকে সবার আগে রেখেছি। আর এই ক্ষেত্রে সবাইকে শুভকামনা জানাতে চাই।’