বিএনপি যে কোনো সময় সংলাপের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থানরত দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। স্থানীয় সময় রবিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য এককভাবে সরকারকে দায়ী করে বলেন, অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার অপচেষ্টা বাস্তবায়ন করার জন্য সরকার এমন কোনো কাজ নেই যা করছে না। তিনি বলেন, চলমান আন্দোলনের মুখে সরকার গণদাবি মেনে ক্ষমতা ছাড়ার পরিবর্তে বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করার এক ভয়াবহ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে উদ্যত হয়েছে। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন সাদেক হোসেন খোকা।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের সঞ্চালনায় জনকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাদেক হোসেন খোকা আরো বলেন, ‘বিরোধী দলের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সরকার একদিকে দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে পেট্রোল বোমা মেরে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে। অন্যদিকে নিরীহ নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে ধরে নিয়ে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ক্রসফায়ারের নামে সরাসরি গুলি চালিয়ে হত্যা করছে।’
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই হত্যাকাণ্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ এবং জনমনে আতঙ্ক প্রসঙ্গে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু দেশ এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপিকে এই কর্মসূচি পালন করতে হচ্ছে।’
তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, এসএসসি পরীক্ষাতো বিএনপি নেতা-কর্মীদের ছেলেমেয়েরাও দিচ্ছে।
তিনি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে জ্ঞানপাপী অভিহিত করে বলেন, তিনি বিএনপির প্রতি হরতাল-অবরোধ বন্ধের অনুরোধ করছেন কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপে বসার অনুরোধ করছেন না কেনো? খোকা আরো বলেন, ‘পরীক্ষার চেয়ে এখন গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অশুভ শক্তিকে হটানো। কারণ এভাবে দেশ চলতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘যখন শেখ হাসিনা সরকার নির্বাচনের জন্য সংলাপের ঘোষণা দেবে তখনই বিএনপি অবরোধ প্রত্যাহার করবে। আজকে সংলাপের আহ্বান করলে আজকেই আন্দোলন বন্ধ করে দেয়া হবে। আমরা যে কোন সময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’ তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলনে জয়ী না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে এবং কোন আপোস নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, সিদ্দিকুর রহমান মান্না, যুবদল নেতা আবু সাঈদ আহমেদ, ছাত্রদল নেতা আতাউর রহমান আতা প্রমুখ।