বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘দেশের অর্থনীতি যখন উন্নতির পথে ধাবমান হচ্ছে, তখন হরতাল-অবরোধের নামে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি তত্পরতা এবং নাশকতা চালানো হচ্ছে। এতে দেশের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যারা এ ধরনের কাজ করছে, তারা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’ শনিবার আনোয়ার সিমেন্ট শিটের লোগো উন্মোচন ও আনুষ্ঠানিক বিপণন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে তিনি এ সব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আনোয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন মেহমুদ, হোসেন খালেদ এবং শিল্প সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির নামে যারা মানুষ মারছে, সন্ত্রাসী তত্পরতা চালাচ্ছে শেষ পর্যন্ত তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ধরনের সন্ত্রাসী তত্পরতা চালানোর ক্ষেত্রে কিছু বুদ্ধিজীবীও ইন্ধন জোগাচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
বিজিএমইএর অনশন ধর্মঘটে হামলার নিন্দা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের ধর্মঘট বন্ধ করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু যতই সন্ত্রাসী হামলা আর নাশকতা চালানো হোক, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে। ২০২১ সালের মধ্যেই দেশ মধ্যম-আয়ের দেশে উপনীত হবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হলেও বর্তমানে উন্নয়নের মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেকেই বিস্মিত। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের এ পরিস্থিতিতে যারা নাশকতা চালাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। এ ধরনের নাশকতার ফলে কার লাভ হচ্ছে?’ এ সব বিবেচনা করে অর্থনৈতিক স্বার্থে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি আহবান জানান।
আনোয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা সব সময় সততা ও নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করেছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে আমরা শিল্প উদ্যোগকে সফল করতে শতভাগ প্রচেষ্টা চালিয়েছি। সবার প্রচেষ্টার ফসল হিসেবেই আমাদের উদ্যোগ সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে। বর্তমানে আমরা কর প্রদানে দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। সামনে আরো শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অবদান বাড়াতে চাই।’
গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে আবাসন খাতের উন্নয়নে সিমেন্ট শিট ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পোল্ট্রি সেক্টরেও বৈপ্লবিক পরির্বতন আনতে সক্ষম হবে। কারণ, সিমেন্ট শিটে তৈরি মুরগির ফার্মে হিট স্ট্রোকে মুরগির মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। গরম ও শীত উভয় সময়ে এ ধলনের শিট খুবই উপযোগী।’