প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের পবিত্র সাংবিধানিক ও গণতন্ত্রের প্রতি যে কোনও হুমকি মোকাবেলায় রাষ্ট্রের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো সেনাবাহিনীকেও সজাগ ও সদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
রবিবার সকালে কক্সবাজারের রামু ক্যান্টনমেন্টে সেনাবাহিনীর নবগঠিত ১০ম পদাতিক ডিভিশনের পতাকা উত্তোলনকালে তিনি এ নির্দেশ দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করার পাশাপাশি অখণ্ডতা ও শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। তাই কোনো মতেই যাতে দেশে জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেজন্য সবার সজাগ থাকতে হবে। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বার্থে দেশ থেকে অশুভ শক্তিকে সমূলে উত্পাটন করতে হবে।’
সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে রামু পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া ও ১০ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান। পরে প্রধানমন্ত্রীকে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সালাম জানান সেনাবাহিনীর প্যারেড কমান্ডার মেজর জয়নুল আবেদীন চিশতি।
ভূ-কৌশলগত কারণে পাহাড়, সাগর ও সীমান্ত ঘেরা কক্সবাজার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের সমুদ্রসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ সেনানিবাস ও সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন যাত্রা শুরু করল। রামু উপজেলার কুনিয়াপালং, দক্ষিণ মিটাছড়ি ও রাজারকুল ইউনিয়নের ১ হাজার ৭৮০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এ সেনানিবাস।
শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন যে, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করে যাবেন। তাদের তাদের নিজস্ব প্রজ্ঞা, পেশাগত দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নিজেদের সুনাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করবেন। শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়ন কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন শৃঙ্খলা ও শান্তি। কিন্তু সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের মতো কর্মকান্ড অনেক সময় শুধু উন্নয়ন কর্মকান্ড কেই বাধাগ্রস্ত করে না, দেশের অখন্ডতা ও শান্তি-শৃঙ্খলার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, জাতির পিতা প্রবর্তিত ১৯৭৪ সালের প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে একটি যুগোপযোগী ও আধুনিক সেনাবাহিনী গঠনের জন্য তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন না থাকলে উন্নয়ন হয় না। দেশের উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন শান্তি ও শৃঙ্খলা। কিন্তু সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ শুধু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করে না, দেশের অখণ্ডতা ও শান্তি শৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার এ কথা জানিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, সেনাবাহিনীর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি ও ফোর্সেস গোল-২০৩০ অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এরই অংশ হলো নবগঠিত ১০ম পদাতিক ডিভিশন।
অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত শ্রীমত্ সত্যপ্রিয় মহাথের, লে. কর্নেল মাজহারুল আল-কবির, সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ, নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস এডমিরাল মোহম্মদ ফরিদ হাবিব, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী ছাড়াও পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতরাও অংশ নেন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নৌ ও বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়নে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।