সবার অংশগ্রহণে সিটি নির্বাচন চান সিইসি

 
    
 
সবার অংশগ্রহণে বহু প্রতীক্ষিত ঢাকার দুই (উত্তর ও দক্ষিণ) সিটি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভালো নির্বাচন চান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। রবিবার ইসির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন—ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলি, জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান আরজু। 
সিইসি বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে আর কোনো সমস্যা নেই। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনও রোজার আগে করতে হবে। কাজেই দ্রুততার সঙ্গে এ নির্বাচন করে ফেলব। সবাই না এলেও নির্বাচন করতে হবে আমাদের। তবে আমরা চাই—সবার অংশগ্রহণে একটি সুন্দর নির্বাচন হোক।’
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করব। এইচএসসি ও রোজার আগে গ্যাপ নিয়ে ভোট করা হবে।’
সিইসি জানান—এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মাঝখানে তো আর স্পেস নেই। এখন এসএসসি পরীক্ষা চলছে, সামনে ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এসএসসি পরীক্ষাও পিছিয়ে যাচ্ছে। এরপর ১৯ জুন থেকে রোজা শুরু হচ্ছে।
রকিবউদ্দীন বলেন, ‘রোজার আগে চট্টগ্রামের ভোট করার বাধ্যবাধকতা থাকায় ঢাকার নির্বাচন একসঙ্গে করার বিষয়টি মাথায় রয়েছে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ভোট একদিনে করার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি। একদিনে করার বিষয়টিও মাথায় রাখব। আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব। এর আগেও আমরা চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন একসঙ্গে একদিনে করেছি।’
‘উপায়ান্তর না থাকায় ভোটের জন্য একটি গ্যাপ খোঁজা হচ্ছে’ জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘রোজার মধ্যে নির্বাচন অ্যাভয়েড করব। পরীক্ষার সময়ও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কিছু অসুবিধা হয়। ভোটের জন্য আমাদের কিছু দিনের গ্যাপ দরকার। নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করব। তারা যদি আমাদের কিছু সময়, বড় না হলে মাঝারি সাইজের গ্যাপ দেখিয়ে দেন, তবে ওই সময় আমরা নির্বাচন করে ফেলব।’
সিইসি বলেন, ‘সীমানা-সংক্রান্ত গেজেট হাতে পাওয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই। ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি ১০ মার্চের মধ্যে শেষ করতে ইসি সচিবালয়কে বলা হয়েছে। ওয়ার্ড অনুযায়ী ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা মুদ্রণ ও ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ করাই এখন অন্যতম কাজ। কেন্দ্র চূড়ান্ত হলে প্রস্তুতিও শেষ হবে। এরপর আমরা তফসিল ঘোষণা করতে পারব। আমরা দ্রুততার সঙ্গে তা করে ফেলতে চেষ্টা করব।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘আইন বাঁচিয়ে নির্বাচন করতে হবে। ১৮০ দিন সময়সীমা বেঁধে দেয়া আছে। ১৮০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে। ২৬ জুলাই বৈঠক হয়েছিল, সে হিসেবে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সে সময় রোজা থাকবে। তাই রোজার আগেই সিসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ছক করা হয়েছে।’
 
সেনাবাহিনী না রাখার ইঙ্গিত:
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অতীতে মোতায়েন না করায় এবারও ঢাকা-চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।
সিইসি বলেন, ‘সেনাবাহিনী আগে কখনো সিটি নির্বাচনে ব্যবহার করিনি। ছোট নির্বাচনে তাদের মোতায়েন করা হয়নি। তফসিল ঘোষণার পরে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে তা মোতায়েন করা হয়। এগুলো পরের কথা। যথাসময়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা, গোয়েন্দা, স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে র্যাব ও অন্যান্য বাহিনী বাড়ানো হয়ে থাকে। আশা করি—ভোটের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
কাজী রকিব বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য পরিস্থিতি আরো ভালো হবে। যাতে স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারে। এর আগে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে যথাসময়ে মোতায়েন করা হবে।
 
সবার অংশগ্রহণ চান সিইসি:
সিটি নির্বাচন নির্দলীয় নির্বাচন হলেও সব দল-সমর্থিত প্রার্থী দিয়ে ভোটে অংশ নিতে আহ্বান জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব। বিগত ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ চেয়েও না আসার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংসদে সবাই আসুক, তা চেয়েছি। এবারও সবাই না এলেও আমাদের নির্বাচন করতে হবে। সবাইকে আহ্বান জানাব—নির্দলীয় নির্বাচন হিসেবে অংশ নিন, প্রার্থীকে সমর্থন জানান। দলে দলে এসে ভোট দিন। সবার অংশগ্রহণে ভোট হোক।’
সিইসি বলেন, ‘আমরা চাই—সবার অংশগ্রহণে ভালো একটা নির্বাচন হোক। নির্দলীয় নির্বাচন, দলীয় প্রতীকও নেই। কিন্তু স্বভাবতই বিভিন্ন দল এতে সমর্থন জানায়। আমরা চাই—সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন হোক। ঢাকাবাসী ঢাকা সিটি নির্বাচনের জন্য উদ্বিগ্ন রয়েছে। তারা চায় নির্বাচন হোক। বিদ্যমান প্রশাসক দিয়ে নাকি তাদের কাজ হচ্ছে না। হওয়ার কথাও না। তবে নির্বাচনের আগে আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করব।’