বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আলকায়েদা প্রধান জাওয়াহিরির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তার নির্দেশেই তিনি নিষ্পাপ শিশুসহ নিরীহ মানুষকে হত্যা করছেন। কারণ মাস চয়েক আগে জাওয়াহিরি বলেছিলেন-তাদের জঙ্গি কার্যক্রম বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। খালেদা জিয়া আল কায়েদার পথ বেছে নিয়েছেন। রবিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া সংলাপ-সংলাপ করছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তাকে আলোচনার জন্য টেলিফোন করেছিলেন, তখন তিনি তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। সংলাপ কার সাথে? যারা নিষ্পাপ শিশু ও দরিদ্র মানুষকে পুড়িয়ে মারে তাদের সাথে? এসব সন্ত্রাসী, নাশকতাকারী ও জঙ্গীদের সঙ্গে এই সরকার কোনদিন সংলাপ করবে না।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন হবে। খালেদা জিয়াকে সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে এই দেশে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। কখনও এভাবে পেট্রলবোমা মেরে মানুষকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেনি। খালেদা জিয়া যা করছেন তা বর্বর, দস্যুতা ও কাপুরুষোচিত জঙ্গী কার্যক্রম। তারা প্রতিদিন হরতাল ডাকছেন, কোথাও হরতাল হচ্ছে না। রাস্তায় রীতিমত যানজট থাকছে। গার্মেন্ট কারখানাসহ সকল কলকারখানা চলছে। এমনকি বিএনপি নেতাদের মালিকানাধীন একটি কারখানাও বন্ধ হয়নি।
তোফায়েল বলেন, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কোপেনহেগেনসহ বিভিন্ন দেশে যেসব সন্ত্রাসী আক্রমণ করেছে, পুলিশ তাদের গুলি করে হত্যা করেছে। তাই সবাইকে বলতে চাই, দুনিয়ার কেউ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায অংশ নিয়ে জাতীয পার্টির (চাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের পরিণতি যে কী হতো তা বলা মুসকিল। নির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পড়তে হবে, আইনের কোথাও তা বলা নেই। কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন, এটিই আইন। কাজেই এই নির্বাচন বেআইনি নয়। তাহলে কেন এই নির্বাচন বাতিল করে আরেকটি নির্বাচন দিতে হবে? আওয়ামী লীগের আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে দেশ ধ্বংসের পায়তারা করছেন। একই দলের খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের বিষয়ে অনেক আলোচনা হতে পারে, কিন্তু উন্নয়ন ছাড়া জাতি এগিয়ে যেতে পারে না।