ঢাবি গ্রন্থাগারে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ!

বইয়ের ধারণ ক্ষমতা, পাঠকসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের দিক দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও অত্যাধুনিক। এটি শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত। কিন্তু বর্তমানে বহিরাগত ও সাবেক ছাত্রছাত্রীদের অবাধ প্রবেশের দরুন অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরা গ্রন্থাগার ব্যবহারের সুবিধা থেকে প্রায়শই বঞ্চিত হচ্ছে। সাবেক শিক্ষার্থীরা কত বছর পর্যন্ত গ্রন্থাগার সুবিধা ভোগ করতে পারবে তার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় গ্রন্থাগারের নিয়মিত সদস্যদের সিংহভাগই সাবেক শিক্ষার্থী। তাছাড়া বহিরাগতদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নমনীয়তা পরোক্ষভাবে তাঁদের গ্রন্থাগারে প্রবেশ সুগম করেছে। ডিজিটাল লাইব্রেরি কার্ড দ্বারা প্রবেশের জন্য গ্রন্থাগারটির প্রধান ফটকে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক প্রবেশপথ থাকলেও ডিজিটাল কার্ডের প্রচলন হয়নি এখনো। এমনকি ব্যাপকার্থে সাধারণ লাইব্রেরি কার্ডের ব্যবহার নেই বললেও অত্যুক্তি করা হয় না—এটা বহিরাগত অনুপ্রবেশের পথকে সহজ করেছে। গ্রন্থাগারের একটি সিট দখলের জন্য এখানে চলে রীতিমত প্রতিযোগিতা। একটা সিট পাওয়ার জন্য গ্রন্থাগার খোলার আগেই ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের বইয়ের ব্যাগ রেখে আসতে দেখা যায়। এমনকি এই রেখে আসা ব্যাগের সারি কখনো কখনো দুই-এক শ মিটার দীর্ঘ হয়! গ্রন্থাগারে প্রবেশের জন্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারিতে দাঁড়ানো, ঘেঁষাঘেঁষির মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা নিঃসন্দেহে বিরক্তিকর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের ৪০ হাজার নিয়মিত শিক্ষার্থীর অনুপাতে গ্রন্থাগারের আসন সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল, সেখানে বহিরাগতদের অবাধে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। পরিশেষে, গ্রন্থাগারকেন্দ্রিক জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টিতে অবিলম্বে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মো. আমিনুর রহমান

শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়