লন্ডনে প্রবাসীদের উদ্যোগে সন্ত্রাস নির্ভর রাজনীতির প্রতিবাদে সমাবেশ

লন্ডনে অভিজিত রায়ের হত্যার ন্যায় বিচার, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ও পেট্রোল বোমা নির্ভর রাজনীতি বন্ধের দাবিতে সমাবেশ হয়েছে। পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলি পার্কে শহীদ মিনারে সোমবার বিকেলে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে কোন মৌলবাদি চক্রের ঘাঁটি হতে পারে না।

সন্ত্রাস বিরোধী সর্বদলীয় জোটের মুখপাত্র সৈয়দ সাজিদুর রহমান বলেন, অভিজিত রায় ছিলেন একজন মুক্ত চিন্তার মানুষ। তিনি মানুষকে বিজ্ঞানমনষ্ক করতে উদ্যোগী ছিলেন। এটা ছিল মৌলবাদীদের জংলি চিন্তার প্রথাবিরোধী। তাই মৌলবাদী অন্ধমনষ্ক সন্ত্রাসিরা অভিজিতকে হত্যা করেছে। তার হত্যাকারি যেই হোক উপযুক্ত শাস্তি তাকে পেতেই হবে। তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে সকল প্রকার নৈরাজ্য রুখে দেয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরো বলেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছরে এসে আন্দোলনের নামে পেট্রল বোমা নির্ভর রাজনীতি কারো কাম্য হতে পারে না। আমরা প্রবাসে থেকে প্রতিনিয়তই আত্মীয়-স্বজনের পাশাপাশি দেশকেও মিস করি। বিশ্বায়নের এই যুগে মূহুর্তে দেখতে পারি সাধারণ মানুষ কীভাবে আগুনে জ্বলছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। হত্যাকারি যেই হোক তাকে বিচারের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। এই অপরাজনীতি বন্ধের আহবান জানান উপস্থিত প্রবাসিরা।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন এমন অনেক প্রবাসি অভিজিত হত্যাকা- এবং পেট্রল বোমা কিংবা ককটেল ছুঁড়ে মানুষ হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন প্রবাসে থেকে আমাদের বিদেশীদের কাছ থেকে প্রতিদিনই লজ্জা পেতে হয়।
ব্রিকলেনে প্রতিষ্ঠিত রেস্ট্রুরেন্ট ব্যবসায়ী শামস উদ্দিন সামস বলেন, প্রতিদিন অন্তত ২০-২৫ জন কাস্টমার বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে খাবার টেবিলে আলোচনা করেন। এটা আমাদের জন্য একটি লজ্জার বিষয়ে। তিনি আরো জানান, লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দৈনিক গড়ে অন্তত ২শ‘ কাস্টমার তার রেঁস্তরায় খেতে আসেন। এরমধ্যে লক্ষণীয় হচ্ছে তরুণ বয়সিরাও বাংলাদেশের বর্তমান নৈরাজ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। বিশেষ করে অভিজিত হত্যা এবং বাক স্বাধীনতা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা মর্মাহত এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। এথেকে সহজেই অনুমেয় যে বিশ্বের সকল মানুষই বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় আহত হচ্ছেন।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মী, জাসদের লন্ডন সভাপতি এনাম, প্রজন্ম-৭১ নেতা ড. আনিস প্রমুখ।