ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠায় দারুণ খুশি নিউইর্কের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। স্থানীয় সময় সোমবার সারাদিনই তারা মেতেছিলেন খুশির জোয়ারে। মিষ্টি বিতরণ, একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি আর খেলার বিশেষ মুহূর্তগুলো নিয়ে জমজমাট আলোচনা করেই দিন কেটেছে সবার। জয়ের এ আনন্দে রীতিমত হৈচৈ পড়ে যায় বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে।
বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড খেলা উপলক্ষে এর আগে স্থানীয় সময় রবিবার রাত সাড়ে ১০টার আগেই সবাই খেলা দেখার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। খেলা শুরু হলে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের রেস্টুরেন্টগুলোতে তিল ধারনের ঠাঁই ছিল না। বাংলাদেশি মালিকানাধীন খাবার বাড়ি, প্রিমিয়াম সুইটস, হাটবাজার ও ফুডকোর্ট রেস্টুরেন্ট শত শত বাংলাদেশি বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ উপভোগ করেন। বাংলাদেশ জয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা উল্লাসে ফেটে পড়েন। এরপর সোমবার বিকাল থেকে জ্যাকসন হাইটস এলাকায় চলে ক্রিকেট আড্ডা। রাত জেগে খেলা দেখায় অনেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যার পর এসব রেস্টুরেন্টে ছিল বাংলাদেশিদের কোলাহল। সবার মুখে ছিল বিজয়ের হাসি আর ক্রিকেটারদের বন্দনা। সারাক্ষণই আলোচনায় ছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি, বিশেষ করে তার ইনজুরির প্রতি সবাই সহানুভূতি জানিয়েছেন দূর থেকে। বাংলাদেশ দলের এ বিজয় মুক্তযোদ্ধাদের উৎসর্গ করায় নিউইয়র্কের মুক্তিযোদ্ধারা মাশরাফির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আলোচনার তুঙ্গে ছিলেন বোলিং বিধ্বংসী পেসার রুবেল। এ দু’জন ছাড়াও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মোহাম্মদউল্লাহ, তাসকিন, মুশফিক এবং সাকিব। ক্যাচ ধরতে না পারার মৃদু সমালোচনা হয়েছে তামিম ইকবালের।
এদিকে, সোমবার সন্ধ্যার পর জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটের খাবার বাড়ি রেস্টুরেন্টের সামনে বিজয় র্যালি করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। র্যালিতে তারা বাংলাদেশি পতাকা তুলে ধরেন। এসময় তারা বেশকয়েকটি ব্যানারে ব্যতিক্রমী স্লোগান তুলে ধরেন ‘এই বিজয়ে দেশে শান্তি আসুক।’
র্যালিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, সংস্কৃতি কর্মী গোপাল স্যানাল, আলমগীর খান আলম, শাকিল মিয়া, জীবন শফিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হারুন ভূঁইয়া প্রমুখ।