রংপুরে ইউপি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সংঘর্ষ

রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিণী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে পুলিশের গুলিতে লোকমান হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে বাবু মিয়া (৩০) ও বুলবুল হোসেনকে (৪০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলিবর্ষণ করে। এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সদ্যপুস্করিণী ইউনিয়নের নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস জানান, পালিচড়া খান চৌধুরী দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ সময় ফলাফল পক্ষে না থাকায় এক প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়। 
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল অনুষ্ঠিত সদ্যপুস্করিণী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনশেষে পালিচড়া খান চৌধুরী দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল মুত্তালিব চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেল রানাকে বিজয়ী ঘোষণা করলে পরাজিত প্রার্থী আব্দুল মতিনের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এক পর্যায়ে সেখানে সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলিবর্ষণ করে। এতে কমপক্ষে ৫০ জন আহত ও ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মতিনের কর্মী লোকমান হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মতিন জানান, আমাকে পরিকল্পিতভাবে হারানোর জন্য নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নতুন করে নির্বাচন এবং তার কর্মীকে হত্যার বিচার দাবি করেন। এদিকে ভেলু বালারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে।
গার্লস স্কুলে পদদলিত হয়ে ৪০ শিক্ষার্থী আহত
রংপুরে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে আতংকিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার সময় ধাক্কাধাক্কি ও পদদলিত হয়ে ৪০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জনকে আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে মহানগরীর রবার্টসনগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
রবার্টসনগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহহেল বাকী দুর্ঘটনার জন্য বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করে বলেন, ট্রান্সফরমারটি এর আগেও কয়েকবার বিস্ফোরিত হয়েছে। এ বিষয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর সাময়িকভাবে বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রবার্টসনগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের দেয়াল ঘেঁষে ১১ হাজার ভোল্টে ট্রান্সফরমারটি গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিকট শব্দে ধোঁয়ার কুন্ডলি পাকিয়ে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় বিদ্যালয়ে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আতংকিত শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে ছোটাছুটি করে বেড়িয়ে আসার চেষ্টা করলে ধাক্কাধাক্কি ও পদদলিত হয়ে ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রুবিনা আখতার ও নাহিদা আখতারকে আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।