বগুড়ার ধুনটে সুলতানা খাতুন নামের ৮ মাসের এক শিশু কন্যা সন্তান মায়ের হাতে খুন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিহত শিশু সুলতানার মা ফাহিমা আকতারকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপতারকৃত ফাহিমা পুলিশের কাছে তার কন্যাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে স্থানীয়রাসহ থানা পুলিশ দাবি করেছে ।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া মেডিকের কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ধুনট উপজেলার নিমগাছি ধুলিপাড়া গ্রামের জনাব আলীর মেয়ে ফাহিমা আকতারের সাথে প্রায় আড়াই বছর আগে একই উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের ঘুগড়াপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের বিয়ে হয় । প্রায় আটমাস আগে তাদের সংসারে কন্যা সুলতানা খাতুনের জন্ম হয়।
এদিকে বেশকিছুদিন যাবত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে ঝগরা-বিবাদ হয়। এতে ফাহিমা আকতার মানসিক বিকারগ্রস্ত হন। এরপরে ৩ মাস আগে ফাহিমা আকতার অভিমান করে সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। সেখানে তিনি পরের বাড়িতে ঝির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
রবিবার রাতে ফাহিমা আকতার তার কোলের সন্তানকে নিয়ে নিকটাত্মীয় নিমগাছি গ্রামের ভ্যান চালক পলাশ মিয়ার বাড়িতে রাত যাপন করেন। ভোর ৫টার দিকে গৃহকর্তা পলাশ মিয়া ফাহিমা আকতারের ঘরে প্রবেশ করে শিশুর মৃতদেহ বিছনায় পড়ে থাকতে দেখেন। কিন্ত ফাহিমা আকতার ছিলেনা । তখন পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে নিমগাছি বাঙ্গালী নদীর সেতুর উপর থেকে ফাহিমা আকাতরকে পেয়ে বাড়িতে ধরে নিয়ে আসেন । এ সময় ফাহিমা তাদের কাছে স্বীকার করেন যে, তিনি তার সন্তাকে গলা টিপে ও কামড়িয়ে হত্যা করে লাশ ঘরে রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, ফাহিমা আকতার তার স্বামীর সাথে বনিবনা না থাকায় তিনি মানসিক ভারসম্য হারিয়ে তার শিশু সন্তানকে হত্যা করেছেন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয় ।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, থানায় আটক ফাহিমা আকতার তার শিশু সন্তানের শরীরে কামড়িয়ে ক্ষতবিক্ষত করে এবং গলাটিপে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।