সোহাগপুরের বিধবা পল্লীতে স্বস্তি

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতারিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করেছেন সোহাগপুরের বিধবা পল্লীর বিধবা ও তাদের স্বজনেরা।

এই নিভৃত পল্লীর স্বামীহার নারীরা কামারুজ্জামানের ফাঁসি বহাল থাকায় একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করেছেন। রিভিউ পিটিশন খারিজের সংবাদে রাষ্ট্রপক্ষের ১নং সাক্ষী শহীদ শফির উদ্দিনের ছেলে ও বিধবা ট্রাস্টের পরিচালক জালাল উদ্দিন বলেন, আপিল বিভাগে রিভিউ খারিজ হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই এবং ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই। পাশাপাশি সোহাগপুরে যে ১৩ জন বীরঙ্গনা রয়েছেন তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি চাই।
সমলা বেওয়া (৬৪), করফুলি বেওয়া (৬৭) ও জবেদা বেগম (৬৬) বলেন, চোখের সামনে স্বামীরে গুলি করছে। ছটফট কইরা স্বামীরে মরতে দেখছি। এই যন্ত্রণা ওরা বুঝবো কি? অহন ফাঁসি দেখবার চাই। কথাগুলো বলতে বলতে চোখের পানি মুছতে থাকেন তারা।
যা ঘটেছিল সেদিন: ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই সকালে গ্রামবাসী প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। মুক্তি বাহিনীর সদস্যরা এই গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে এবং এলাকার লোকজন মুক্তি বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন এমন কারণ দেখিয়ে শেরপুরের চিহ্নিত রাজাকার নেতা কামারুজ্জামানের নির্দেশে গ্রামটিকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে হানাদার বাহিনী। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই নির্বিচার গুলিতে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে তারা। প্রাণ হারান ১৮৭ জন নারী-পুরুষ-শিশু। জ্বালিয়ে দেয়া হয় ঘরবাড়ি। ধর্ষিতা হন অনেক নারী। ওইদিনের হত্যাযজ্ঞে বিধবা হন ৪০ নারী, যাদের আটজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে সেদিনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেননি সোহাগপুরের স্বজনহারা মানুষরা।