স্মার্টফোনে থ্রিডি স্ক্যানার যোগ করবে নতুন চিপ

থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি এখন প্রযুক্তিবিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় প্রবণতা। গবেষণাগার থেকে বেরিয়ে এসে এই প্রযুক্তি এখন ব্যক্তি ব্যবহারের উপযোগীও হয়ে উঠতে শুরু করেছে। এর মধ্যেই নানা ধরনের মডেল তৈরির জন্য থ্রিডি প্রিন্টারের জনপ্রিয়তাও উন্নত দেশগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু নানা কারণেই থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তিটি বেশ ব্যয়বহুল। বিশেষ করে থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় থ্রিডি স্ক্যানিং প্রযুক্তি এখনও সহজলভ্য হয়ে ওঠেনি সর্বত্র। থ্রিডি প্রিন্টারের মতো থ্রিডি স্ক্যানারও তাই ব্যয়বহুল। তবে থ্রিডি স্ক্যানিংয়ের সেই অপ্রতুলতার অবসান ঘটতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (ক্যালটেক) এক দল গবেষক সম্প্রতি এমন একটি চিপ উদ্ভাবন করেছেন, যেটি স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করেই যেকোনো বস্তুর থ্রিডি স্ক্যানিং সম্পন্ন করতে পারে। সিলিকনের তৈরি এই চিপের আকার মাত্র এক মিলিমিটার হওয়ায় সহজেই একে স্মার্টফোনের মতো মোবাইল ডিভাইসেও স্থাপন করা সম্ভব। আর প্রযুক্তিগত দিক থেকে অগ্রগামী হওয়ায় এর মাধ্যমে যেকোনো বস্তুরই থ্রিডি স্ক্যানিং প্রতিরূপ পাওয়া সম্ভব অত্যন্ত উচ্চ রেজ্যুলেশনে। স্মার্টফোন থেকেই স্ক্যান করা থ্রিডি প্রতিরূপ সরাসরি থ্রিডি প্রিন্টারেও পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব। ফলে থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের জন্য এখন আর আসলে থ্রিডি প্রিন্টার ছাড়া ডেস্কটপ পিসির মতো বড় আকারের কোনো ডিভাইসের প্রয়োজন থাকবে না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তিতে মূলত স্মার্টফোন থেকে একটি আলোকরশ্মি বিচ্ছুরণ করা হয়। সেই আলোকরশ্মি কোনো বস্তুর ওপর আপতিত হলে বস্তু থেকে সেই রশ্মির প্রতিফলনের তথ্য সূক্ষাতিসূক্ষভাবে বিশ্লেষণ করেই মূলত বস্তুতির থ্রিডি প্রতিরূপের স্ক্যানিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এই আলোকরশ্মির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে লাইডার (লাইট ডিটেকশন অ্যান্ড রেঞ্জিং) লেজার রশ্মি। এই ধরনের লেজার রশ্মি মূলত ব্যবহার করা হয় রোবট এবং রোবটিক যন্ত্রাংশ নেভিগেশনের কাজে। ফলে এই রশ্মি থেকে সংগৃহীত তথ্য অত্যন্ত নিখুঁত হিসেবেই স্বীকৃত। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভাবিত থ্রিডি স্ক্যানিংয়ের প্রমাণস্বরূপ বেশকিছু বস্তুর স্ক্যানিং করেও দেখিয়েছেন গবেষকরা। ফলে এই ধরনের প্রযুক্তি থ্রিডি প্রিন্টিংকে মূল ধারায় সকলের নিকট সহজলভ্য করে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গবেষকরা।