১৯৭৫ সালের ৪ এপ্রিল। প্রযুক্তিবিশ্বের কাছে এই দিনটি আর দশটি দিনের চাইতে একটু আলাদা। আর তার কারণ হলো এই দিনেই গড়ে উঠেছে বর্তমান প্রযুক্তিবিশ্বের অন্যতম এক অবিচ্ছেদ্য নাম ‘মাইক্রোসফট’। দুই বন্ধু—১৯ বছর বয়সী বিল গেটস আর ২২ বছর বয়সী পল অ্যালেনের হাত ধরে যাত্রা শুরু ‘মাইক্রো-সফট’ নাম নিয়ে। মাইক্রোসফটের এই চার দশকের পথচলার গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাইলফলক তুলে ধরেছেন তরিকুর রহমান সজীব
৪ এপ্রিল ১৯৭৫ মাইক্রোসফটের যাত্রা শুরু। প্রারম্ভিক ঠিকানা ছিল ‘৮১৯ টু পার্ক সেন্ট্রাল টাওয়ার, অ্যালবাকুয়েরকিউ, নিউমেক্সিকো ৮৭১০৮’।
১ জানুয়ারি ১৯৭৯ - ওয়াশিংটনের বেলেভিউতে চলে আসে মাইক্রোসফট।
১২ আগস্ট ১৯৮১ - আইবিএম-এর পার্সোনাল কম্পিউটারে প্রথমবারের মতো ব্যবহূত হয় মাইক্রোসফটের ১৬-বিট অপারেটিং সিস্টেম এমএস-ডস (ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম) ১.০।
২০ নভেম্বর ১৯৮৫ - মাইক্রোসফটের প্রথম গ্রাফিক্যাল অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ ১.০ অবমুক্ত।
১৩ মার্চ ১৯৮৬ - শেয়ার বাজারে মাইক্রোসফটের প্রবেশ।
১ আগস্ট ১৯৮৯ - অফিস স্যুটের প্রাথমিক সংস্করণ অবমুক্ত।
২২ মে ১৯৯০ - উইন্ডোজ ৩.০ বাজারে।
১৬ আগস্ট ১৯৯৫ - প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের যাত্রা শুরু।
২৪ আগস্ট ১৯৯৫ - উইন্ডোজ ৯৫ বাজারে।
২২ জুলাই ১৯৯৯ - এমএসএন মেসেঞ্জার নামে মাইক্রোসফটের ইন্সট্যান্ট মেসেজিং ক্লায়েন্টের যাত্রা শুর। পরে এর নাম হয় উইন্ডোজ লাইভ মেসেঞ্জার। স্কাইপকে কিনে নেওয়ার পরই মূলত একে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় মাইক্রোসফট।
১৩ জানুয়ারি ২০০০ - মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে স্টিভ বলমারের নাম ঘোষণা।
৩১ মে ২০০১ - অফিস এক্সপির আত্মপ্রকাশ।
২৫ অক্টোবর ২০০১ - মাইক্রোসফটের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ এক্সপির অবমুক্তি।
১৫ নভেম্বর ২০০১ - মাইক্রোসফটের গেম কনসোল এক্সবক্সের যাত্রা শুরু।
৭ নভেম্বর ২০০২ - মাইক্রোসফট ট্যাবলেট পিসির যাত্রা শুরু। উইন্ডোজ এক্সপি ট্যাবলেট পিসি এডিশন অপারেটিং সিস্টেমে চালিত এই ট্যাবলেট পিসি অবশ্য বাজারে সাড়া ফেলতে ব্যর্থ হয়।
৩০ জানুয়ারি ২০০৭ - উইন্ডোজ এক্সপির পরবর্তী সংস্করণ হিসেবে উইন্ডোজ ভিসতা অবমুক্ত। অফিস ২০০৭ সংস্করণ প্রকাশ। এর মধ্যে উইন্ডোজ ভিসতা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি।
১ আগস্ট ২০০৭ - ক্লাউড স্টোরেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে উইন্ডোজ লাইভ ফোল্ডার। পরবর্তী সময়ে উইন্ডোজ লাইভ স্কাইড্রাইভ, স্কাইড্রাইভ নাম পেরিয়ে ওয়ানড্রাইভ নামেই চূড়ান্তভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে মাইক্রোসফটের এই ক্লাউড স্টোরেজ।
২৭ জুন ২০০৮ - মাইক্রোসফটের রুটিন কাজ থেকে অব্যহতি নেন বিল গেটস। মূলত বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।
২২ অক্টোবর ২০০৯ - উইন্ডোজ ভিসতার ব্যর্থতার পর উইন্ডোজ ৭ অবমুক্ত। এটি ক্রমেই জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে।
৪ নভেম্বর ২০১০ - এক্সবক্স ৩৬০-এর জন্য কাইনেক্ট অবমুক্ত।
২৮ জুন ২০১১ - অফিস স্যুটের ধরণ পাল্টে অফিস ৩৬৫-এর যাত্রা শুরু।
১৩ অক্টোবর ২০১১ - স্কাইপকে কিনে নেওয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাইক্রোসফট।
২৬ অক্টোবর ২০১২ - টাচ এনাবল্ড ডিভাইসের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়ে উইন্ডোজের নতুন সংস্করণ উইন্ডোজ ৮ অবমুক্ত। সারফেস ট্যাবলেট পিসিও বাজারে ছাড়ে তারা। এর মধ্যে নানা কারণেই উইন্ডোজ ৮ জনপ্রিয়তা পায়নি।
২৯ অক্টোবর ২০১২ - স্মার্টফোনের জন্য উইন্ডোজ ফোন ৮ অবমুক্ত।
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ - উইন্ডোজ লাইভের পরিবর্তে আউটলুক ডটকমের যাত্রা শুরু।
২১ মে ২০১৩ - গেম কনসোল এক্সবক্সের নতুন সংস্করণ এক্সবক্স ওয়ান অবমুক্ত।
৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ - নকিয়াকে কিনে নেওয়ার ঘোষণা মাইক্রোসফটের।
৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ - মাইক্রোসফটের নতুন প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেল্লার নাম ঘোষণা।
২৭ মার্চ ২০১৪ - আইপ্যাডের জন্য মাইক্রোসফট অফিস অবমুক্ত।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ - জনপ্রিয় গেম মাইনক্র্যাফটকে কিনে নেওয়ার ঘোষণা মাইক্রোসফটের।
৬ নভেম্বর ২০১৪ - অ্যান্ড্রয়েডের জন্য অফিস অ্যাপস তৈরির ঘোষণা।
২১ জানুয়ারি ২০১৫ - সব ধরনের ডিভাইসের জন্য একক অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ ১০-এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় মাইক্রোসফট।