চল্লিশ বছর ধরে মাইক্রোসফট প্রযুক্তিবিশ্বকে উপহার দিয়েছে নানা প্রযুক্তি পণ্য আর সেবা। এসব পণ্যের অনেকগুলোই এখন আধুনিক কম্পিউটিংয়ের সমার্থক হয়ে গেছে। জনপ্রিয় সফটওয়্যারের তালিকায় হয়তো কেউই মাইক্রোসফটকে অতিক্রম করতে পারবে না। মাইক্রোসফটের পণ্যতালিকা থেকে পাঁচটির কথা জানাচ্ছেন সানজিদা সুলতানা
এমএস-ডস অপারেটিং সিস্টেম
বলতে গেলে পার্সোনাল কম্পিউটারকে কীভাবে সাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা যায়, তার ধারণা ছিল না অনেকেরই। ঠিক সেই জায়গা থেকে মাইক্রোসফটের এমএস-ডস (ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম) এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন। ওই সময়ে কম্পিউটার নির্মাতা হিসেবে আইবিএমের ছিল একাধিপত্য। তাদেরকেও মুগ্ধ করে এমএস-ডস। আর তারই ফলে ১৯৮১ সালে এমএস-ডস অপারেটিং সিস্টেমে চালিত প্রথম পার্সোনাল কম্পিউটার বাজারে আনে আইবিএম।
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম
এমএস-ডস নানা স্তরেই বেশ জনপ্রিয়তা পেলেও কমান্ড প্রম্পট-নির্ভর এই অপারেটিং সিস্টেম আসলে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুব একটা উপযোগী ছিল না। গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের অপারেটিং সিস্টেম তাই আরাধ্য ছিল। সেই চাহিদাও পূরণ করে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের মাধ্যমে। এরপর থেকে তো বিশ্বব্যাপী পিসি অপারেটিং সিস্টেমের সমর্থকই হয়ে গেছে উইন্ডোজ। উইন্ডোজের একের পর এক সংস্করণগুলো একটি আগেরটিকে ছাড়িয়ে গেছে নানা দিক থেকে। উইন্ডোজ এক্সপির পর অবশ্য একটু ধাক্কা খেয়েছে মাইক্রোসফট। পরে উইন্ডোজ ৭ সেই ঘাটতি পূরণ করেছে। এরপর উইন্ডোজ ৮ এবং ৮.১ খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। এখন মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ নিয়ে আশার জাল বুনতে শুরু করেছে। সব ধরনের ডিভাইসেই ব্যবহারের উপযোগী একক অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ ১০ মাইক্রোসফটকে বেশ অনেকটাই এগিয়ে দিতে পারে।
মাইক্রোসফট অফিস
বিশ্বকে বদলে দেওয়া কোনো সফটওয়্যার প্রোগ্রামের কথা যদি বলতে হয়, তাহলে মাইক্রোসফট অফিসের নাম না নিয়ে উপায় নেই। কম্পিউটারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের লেখালেখি থেকে শুরু করে হিসাব-নিকাশ, তথ্যের উপস্থাপন, ইমেইল চালাচালি, ছোট-বড় নানা ধরনের ডিজাইনের কাজ—এমন হাজারো সব কাজের সমাধান হিসেবে মাইক্রোসফট অফিসের যাত্রা শুরু। এমএস ওয়ার্ড, এমএস এক্সেল, এমএস পাওয়ারপয়েন্ট—এসব প্রোগ্রাম পিসিতে ব্যবহার করেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই খুব কঠিন। উইন্ডোজ পিসির বাইরেও ম্যাক ডিভাইস তো বটেই, এখন মোবাইল ডিভাইসগুলোতেও রাজত্ব পাকা করতে এগিয়ে যাচ্ছে এমএস অফিস সফটওয়্যার স্যুট। সময়ের সাথে সাথে এখন বলতে গেলে সব ধরনের কাজের সমাধানই রয়েছে অফিস স্যুটে।
ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার
নব্বইয়ের দশকে এসে ইন্টারনেট যখন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে বিশ্বব্যাপী, তখন মানসম্মত একটি ওয়েব ব্রাউজারের চাহিদা পূরণে এগিয়ে আসে মাইক্রোসফট। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের প্রথম সংস্করণটি বাজারে আসে ১৯৯৫ সালে, উইন্ডোজ ৯৫-এর সাথে। মূলত ওয়েব ব্রাউজারের একদম আদি মানটি নির্ধারণ করে দেয় এই ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার। ২০০৫ সালের পরও ওয়েব ব্রাউজারে একাধিপত্য বজায় রাখতে সমর্থ হয় মাইক্রোসফটের এই ব্রাউজারটি। পরবর্তী সময়ে গুগল ক্রোম আর মজিলা ফায়ারফক্সের কাছে ক্রমেই বাজার হারাতে শুরু করে ‘আই ই’ সংক্ষিপ্ত নামের ব্রাউজারটি। বিশ্বকে শাসন করা ব্রাউজারটির দিক থেকে মাইক্রোসফটও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। স্পার্টান নামের নতুন একটি ব্রাউজার নিয়ে এখন ব্যস্ত মাইক্রোসফটের সফটওয়্যার টিম।
এক্সবক্স ও কাইনেক্ট
গেম কনসোলের বাজারে মাইক্রোসফটের প্রবেশ বেশ বিস্ময়ের জন্ম দেয়। অনেকেই সফটওয়্যারে বিশেষায়িত মাইক্রোসফটের ব্যর্থতা ছাড়া অন্য কিছু দেখেনি এক্সবক্স বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়ার সময়। তবে এক্সবক্স চূড়ান্ত বিচারে মাইক্রোসফটের অন্যতম সফল একটি পণ্যে পরিণত হয়। সর্বশেষ এক্সবক্স ওয়ান-ও জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে নেই। একীভূত বিনোদন ব্যবস্থা হিসেবে এক্সবক্স ওয়ান পিছিয়ে নেই কোনোভাবেই। এক্সবক্সের সাথে মোশন কন্ট্রোল সিস্টেম হিসেবে কাইনেক্টের সংযুক্তি একে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।