কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘ পাইপ লাগিয়ে পুকুর ভরাটসহ দূরবর্তী বিভিন্ন স্থানে বালু স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, একটি প্রভাবশালী মহল কমলগঞ্জ পৌর এলাকার কুমড়া কাপন গ্রামে ধলাই নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। বাসাবাড়ি ও রাস্তার উপর দিয়ে পাইপ লাইন টেনে নিয়ে পুকুর ভরাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বালু স্থানান্তর ও স্তূপীকৃত করছে। ফলে নদীর নির্দিষ্ট স্থানে গভীরতা সৃষ্টি হচ্ছে ও হুমকির মুখে পড়ছে নদীর বাঁধ ও ব্রিজ। বাড়িঘর, রাস্তাঘাটে চলাচলে ও জনজীবনে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিচ্ছে।
গত বুধবার সকালে কুমড়া কাপন এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় পাইপ লাইনের উপর দিয়ে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থী বহনকারী একটি প্রাইভেট গাড়ি দুর্ঘটনা কবলিত হয়। আলেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০ গজ অদূরে ধলাই নদী থেকে ড্রেজার (বোম্বা) মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পৌরসভার আলেপুর ও কুমড়া কাপন এলাকায় দুই শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর পড়াশুনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিনষ্ট হচ্ছে আশেপাশের এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ। কুমড়া কাপন এলাকার বাসিন্দা অ্যাড. সানোয়ার হোসেনসহ স্থানীয়রা জানান, মেশিন লাগিয়ে বেপরোয়াভাবে বালি উত্তোলনের ফলে মেশিনের উচ্চ শব্দে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। তাছাড়া ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
আলেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার, কমলগঞ্জ বহুমুখী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক নুরুল ইসলাম জানান, প্রায় দু’বছর ধরে কিছু প্রভাবশালী বিদ্যালয়ের নিকটেই ধলাই নদী থেকে ড্রেজার (বোম্বা) মেশিনের মাধ্যমে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বালু উত্তোলন চলছে। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে চরম বিঘ্ন ঘটছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। আলেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক সইদুন বেগম, মন্নান মিয়া জানান, মেশিনের শব্দের কারণে আমাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া নষ্ট হচ্ছে। দিন নেই, রাত নেই, দু-তিন বছর যাবত্ একটি প্রভাবশালী মহল এখান থেকে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।
মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজ বলেন, ‘মাটি ও বালি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে বালু উত্তোলনের ফলে ধ্বংস করা হচ্ছে দেশের সম্ভাবনাময়ী সম্পদ। ধলাই নদীসহ বিভিন্ন নদী ও ছড়া থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ, প্রতিবেশ মারাত্মক বিপর্যস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।’ তবে বালু উত্তোলনকারীদের একজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আলেপুর ও কুমড়া কাপন এলাকায় ইজারা এবং মেশিন ব্যবহারের অনুমতি নিয়েই বালু উত্তোলন করছি। কারো কোনো ক্ষতি করা হচ্ছে না। ছোট ছোট মেশিনের শব্দে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, ‘নদীতে মেশিন লাগিয়ে বালু উত্তোলন সঠিক নয়। তাছাড়া বালু উত্তোলনে নানা সমস্যার অভিযোগ পেয়ে ইজারাদারকে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত-পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’