নির্বাচনী হলফনামায় ভুল তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, যারা জনপ্রতিনিধি হবেন তারা তাদের সম্পদের হিসাব সঠিকই দেবেন হলফনামায়। যদি কেউ হলফনামায় সঠিক তথ্য না দেন বা সম্পদের তথ্য গোপন করেন তাকে চিহ্নিত করা কঠিন কিছু নয়। প্রার্থীদের হলফনামা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ‘ডেফিনেটলি’ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কমিশন। গতকাল সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমি মনে করি না, কোনো দুর্নীতিবাজকে আমাদের দেশের মানুষ নির্বাচিত করবে। এটা আমার বিশ্বাস হয় না। যদি এমন কিছু হয় তাহলে আমরা আমাদের আওতায় আনার চেষ্টা করব এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনকারীদের চরিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরব।
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা চেয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির সমস্যা হলো হিমালয়ের পাহাড়ের মতো বিস্তৃত। আপনি যদি ডানে হাত দেন দুর্নীতি, বামে হাত দেন সেখানেও দুর্নীতি। সে জন্যই বলি যে, শুধু আমরা একা হইচই করলে হবে না, দুদকের একার পক্ষে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এতে আপনাদের লাগবে, সরকারকে লাগবে, সবাইকে লাগবে। আমরা চাই সুন্দর দেশ। দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশ। আমাদের দেশের সম্মান যদি চাই তাহলে একযোগে কাজ করতে হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। নির্বাচন হচ্ছে কি হচ্ছে না, এটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, আমরা চাইব নির্বাচন কমিশনে তারা তাদের সঠিক সম্পদের হিসাব জমা দেবেন। গোলমাল দেখলেই আমি আমার কাজ করব। ব্যবস্থা নেব।
দুর্নীতিবাজদের অংশগ্রহণ না করতে দেওয়ার বিষয়ে ইসিতে দুদকের সুপারিশ থাকবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, না, সুপারিশ আমাদের থাকবে না। কারণ হচ্ছে, আরপিও অনুসারে যে কেউ নির্বাচন করতে পারেন, তাতে আমাদের কিছু করার নেই। সেটার সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ইসিকে কিছু বলব না বা সুপারিশ করব না। আমরা কখনই স্বপ্রণোদিত হয়ে নির্বাচন কমিশনকে বলব না ক, খ, গ বা অন্য কেউ এমন, এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও। এটা তাদের বিষয়।