কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে গবেষণা চলে আসছে দীর্ঘদিন হলো। বিভিন্ন দেশের কম্পিউটার বিজ্ঞানীই এই কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসছেন। বিভিন্ন গবেষকদের গবেষণায় কিছু কিছু সাফল্যও মিলেছে। সেগুলোর সমন্বয়ে আস্ত একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির বিষয়েও ক্রমেই আশাবাদী হয়ে উঠছিলেন গবেষকরা।
এবারে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষণার ফলাফল কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির এই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। তারা প্রথমবারের মতো সাধারণ ইলেক্ট্রিক্যাল পালস ব্যবহার করে কোয়ান্টাম ইনফরমেশন এনকোড করতে সমর্থ হয়েছেন।
সাধারণ কম্পিউটিং ডিভাইসগুলোতে ট্রান্সজিস্টর, হার্ডড্রাইভ প্রভৃতিতে তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা হলেও কোয়ান্টাম কম্পিউটারে প্রক্রিয়াটি একটু ভিন্ন। এতে কিউবিট নামে এক ধরনের মাইক্রোস্কোপিক বস্তুতে ডাটা কোয়ান্টাম স্টেটে এনকোড করে রাখতে হয়।
সাধারণ ইলেক্ট্রিক্যাল পালস ব্যবহার করে তাত্ত্বিক এই প্রক্রিয়ার রূপদান সম্পন্ন হওয়ায় সহজে বড় আকারের কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি সম্ভব হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এই গবেষক দলটিই সকল গবেষকদের মধ্যে প্রথমবারের মতো সিলিকনে সিঙ্গেল-অ্যাটম স্পিন কিউবিট প্রদর্শন করেছিল। অব্যাহত গবেষণার মাধ্যমে তারা কিউবিটের ওপর নিয়ন্ত্রণও প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছেন প্রায় ৯৯ শতাংশ দক্ষতায়।
গবেষকরা জানিয়েছেন, কিউবিট নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা এতদিন থাকলেও তার অনেকটাই তারা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। এতে করে কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির বিভিন্ন ধাপে এতদিন পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ও পণ্যের ব্যবহার থাকলেও তা অনেকটাই কমে যাবে তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাধ্যমে। ফলে কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির প্রক্রিয়া আরও বেশি সহজ হয়ে উঠবে বলেই মন্তব্য তাদের।