১৮ মার্চ কানপুরের আইআইটি হোস্টেলে বসেই বাংলাদেশ-ভারতের খেলা দেখছিলেন বুয়েটের ছাত্ররা। হোস্টেলের অন্য শিক্ষার্থীদের সবাই ভারতীয়। খেলা দেখতে দেখতে মনটা বিষণ্ন হয়ে পড়ছিল। আম্পায়ারের বাজে সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশের বিপক্ষে যাওয়ায় মন ভার। দল হেরে গেলে সান্ত্বনা দেয়ার কেউ ছিল না। কিন্তু মনের ভেতর একটা জেদ চেপে যায়। বুয়েট এসি-ডিসি দলের সদস্য রাকিবুল ইসলাম চৌধুরীর ভাষায়, ‘এখানে বাংলাদেশ হেরে গেছে। কিন্তু অন্য কোথাও বাংলাদেশকে জিতিয়ে দিতে হবে।’
জেদ বেশিদিন বয়ে নিয়ে যেতে হয়নি। পরদিন ১৯ মার্চ আসে বাংলাদেশকে প্রমাণ করার সুবর্ণ সুযোগ। ইন্টারন্যাশনাল অটোনোমাস রোবটিক চ্যালেঞ্জ (আইএআরসি) প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেয় বুয়েটের দুটি দল। ভিসা জটিলতার কারণে বুয়েট ফায়ার ফ্লাইসের আরাফাত মাহমুদ এবং সামস-উজ-জামান প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। ফলে ফায়ার ফ্লাইস দল থেকে একাই লড়েছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাখাওয়াত হোসেন এবং বুয়েট এসি-ডিসি দলে লড়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো:নাঈম রেজা, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এডিএম মারজান আল জান্নাত এবং রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী (সীমান্ত)।
ইমেজ প্রসেসিং ভিত্তিক শাফল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বুয়েট এক্সপোনেনসিয়াল। দলে ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আবুল আল আরাবী এবং খালেদ বিন মঈনউদ্দিন। ভিসা জটিলতায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ অংশ নিতে পারেননি। এ প্রতিযোগিতায়ও চ্যাম্পিয়ন হন বুয়েট এক্সপোনেনসিয়াল। প্রতিযোগিতাটি সম্পর্কে খালেদ জানান, ‘মেঝের উপরে কার্নিশে ক্যামেরা ছিল। ক্যামেরা মেঝের তথ্যগুলো নিয়ে ল্যাপটপে পাঠাত। এ তথ্যগুলো অনুসারে রোবটকে পরিচালিত করতে হয়েছে। মেঝেতে কিছু লাল এবং সবুজ বক্স ছিল। লাল বক্স লাল গর্তে এবং সবুজ বক্স সবুজ গর্তে রোবট দ্বারা বসানো ছিল কাজ। প্রতিযোগিতায় আমরাই কেবল নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে সবগুলো বক্স নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে পেরেছি।’
আইএআরসি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বুয়েট ফায়ার ফ্লাইস ১ লাখ রুপি, প্রথম রানার্স আপ বুয়েট এসি-ডিসি সাড়ে ৪৭ হাজার রুপি এবং ক্যাননের একটি ক্যামেরা, শাফল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বুয়েট এক্সপোনেনসিয়াল ৩৫ হাজার রুপি পুরস্কার হিসেবে পায়।