ডিইপিজেডের অধিগ্রহণকৃত জমি অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ

সাভার উপজেলায় অবস্থিত ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) নামে অধিগ্রহণকৃত প্রায় ৫১ শতাংশ জমির  অবৈধভাবে সাফকবলা দলিল সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে একটি মহলের বিরুদ্ধে। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিক্রীত এই জমিতে মাটি ফেলে দখলের চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে। অধিগ্রহণকৃত ওই জমিটি প্রভাবশালীরা দলিল করে নিয়েছে উল্লেখ করে ইতোমধ্যে ডিইপিজেড এর জেনারেল ম্যানেজার বরাবরে জনস্বার্থে খালেদ সাইফুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে জানালে তদন্ত করে বিষয়টির প্রমাণ পেয়েছে স্থানীয় ভূমি অফিস। এছাড়া বিষয়টির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সুপারিশ জানিয়ে আবেদন করেছেন বেপজা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ডিইপিজেড নতুন জোন সংলগ্ন গণকবাড়ি মৌজায় দুটি দাগে মালিকানা সম্পত্তি ২ একর ২৯ শতাংশ। এরমধ্যে ৯০৭ দাগে পৈতৃকসূত্রে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে তাহাজ উদ্দিন ২১ শতাংশ জমির মালিক। বাকি ২ একর ৮ শতাংশ সম্পত্তি আবু বকর সিদ্দিক গংদের।

আশুলিয়া ভূমি অফিসসূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে ৯ আগস্ট আবু বকর সিদ্দিক গংদের জমি সরকার অধিগ্রহণ করে এবং ৭টি চেকের মাধ্যমে সরকার জমির মূল্য পরিশোধ করে। কিন্তু ২০১৩ সালে আবু বকর গংরা ডিইপিজেডের অধিগ্রহণকৃত জমিসহ ব্যক্তি মালিকানা ২ একর ৫৭ শতাংশ জমি ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নামজারি ও খাজনা খারিজ করে নেওয়া হয়। পরে ওই ভূমি দখলদাররা জোরপূর্বক ৩ একর জমির ওপর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে ওই জমি ইউনাইটেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এস্ট্রো এস্টেট লিঃ নামক কোম্পানির কাছে আনুমানিক ২৮ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেয়। এ জালিয়াতির বিষয়টি তদন্ত ও প্রতিরোধে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (বেপজা) মহাব্যবস্থাপক মো. মেহবুব আলী স্বাক্ষরিত এক প্রেরিত পত্রে (স্মারক নং- ০৩.০৬.২৬৭২.৩৩৫.১৮.০১.১৯২.২০১৮-১০৮) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) অধিগ্রহণকৃত ৫০.৫০ শতাংশ জমিতে যাতে কোনো জটিলতার সৃষ্টি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় আশুলিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে খারিজ বাতিলের মামলা (নং-৪০৪/১৮) করা হলে মামলাটি তদন্ত করেন আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ লুত্ফর রহমান। তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি  উল্লেখ করেছেন, অধিগ্রহণকৃত জমি ব্যক্তি মালিকানার নামে খারিজ করা হয়েছে যা সঠিক হয়নি। তিনি তা বাতিল করে উক্ত জমি মূল জোতভুক্ত করার জন্যও তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছেন।

আশুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর প্রেরিত এক চিঠিতে এস্ট্রো এস্টেট লিমিটেড এর পক্ষে আবুল কালাম আজাদের নামে আশুলিয়ার গণকবাড়ী মৌজায় ব্যক্তিমালিকানাসহ দুটি দলিলে (নং-৩৩৫৯ ও ৫৯৩০, তারিখ-১-৩-২০১৮ এবং ২৪-৪-২০১৮) ৫০.৫০ শতাংশ অধিগ্রহণকৃত জমি সাবকবলা রেজিস্ট্রির সত্যতাও পাওয়া গেছে। এছাড়া চিঠিতে আশুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রার উক্ত দলিল দুটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিকনির্দেশনা চেয়েছেন।

অপরদিকে বিক্রেতা এবং ক্রেতাগণ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দু’টি দলিল এক মাসের ব্যবধানে সম্পাদন করে জমির মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে।