একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রার্থিতা বিষয়ে ব্যাখ্যা খুঁজছে ইসি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়ররা পদত্যাগ না করে প্রার্থী হতে পারবেন কি না তার ব্যাখ্য খুঁজছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল  সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লেখা এক চিঠিতে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়টি জানতে চেয়েছেন।

এ বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে জরুরিভিত্তিতে নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিং-এ রিটার্নিং অফিসররা বিষয়টি জানতে চেয়েও স্পষ্ট কোন জবাব পাননি। ওই সময়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট সব আইন খতিয়ে দেখে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হবে। গতকালও বিএনপির এ চাহিদা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তাদের চিঠি পেয়েছি। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা জানার চেষ্টা করছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দেয়া হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ ধারা সম্পর্কে ইসি ও আদালতের ব্যাখ্যায় সিটি করপোরেশন ও পৌর মেয়রের পদকে লাভজনক পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এদিকে জেলা ও   উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানের পদ লাভজনক কিনা সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে এর আগে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি। তবে ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, যে কারণে মেয়র পদ লাভজনক সে কারণে চেয়ারম্যানদের পদও লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।  

দলীয় বিদ্রোহী আটকালেও জোটে সুযোগ থাকছেই 

নির্বাচনী আইনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতরা বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারছেন না। কিন্তু জোটে বিদ্রোহী হওয়ার সুযোগ থাকছেই। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বলা আছে, একই দল থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও যাকে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি দেয়া হবে তিনিই প্রার্থী হিসেবে টিকে থাকবেন। বাকীদের মনোনয়নপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে যাবে। তবে এই নিয়ম জোটবদ্ধ দলগুলোর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। জোটের শরিক দলের কেউ মনোনয়নবঞ্চিত হলেও নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ বিষয়ে আইনের ব্যাখ্যা চেয়ে গতকাল নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে সরকার বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের প্রধান শরিক বিএনপি। ইসি কার্যালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ অবশ্য জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আরপিও’তে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এরপরেও আইনি ব্যাখ্যাসহ বিএনপির চিঠির জবাব দেয়া হবে।