১১টি লক্ষ্য আর তরুণদের গুরুত্ব দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রাথমিক খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এতে তরুণদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স হবে ৩৫। এর সঙ্গে মিল রেখে অবসরের বয়স বাড়ানো, কোটার যৌক্তিকীকরণ হবে। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও স্ব অবস্থান- এ তিন অঙ্গীকারে নবধারার রাজনীতি ও সরকারের প্রতিশ্রুতি থাকছে ইশতেহারে। থাকছে নতুন নতুন চমক ও প্রতিশ্রুতি।

‘জনগণ এ রাষ্ট্রের মালিক’- এ ধারণা সুপ্রতিষ্ঠিত করার নির্দেশনা সংবলিত ইশতেহারে সব মত ও পথ নিয়ে বাংলাদেশকে একটি রেইনবো ন্যাশন বা রংধনু জাতিতে পরিণত করার বিস্তারিত ঘোষণা থাকবে। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও। বিএনপিসহ সব শরিকের প্রস্তাব সমন্বয় করেই হচ্ছে খসড়া। ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির একজন সদস্য জানান, মূলত ১১টি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ইশতেহারের মৌলিক বক্তব্য তৈরি হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সন ঘোষিত ’ভিশন ২০৩০’-এ ‘গণতন্ত্র’কেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া তার প্রস্তাবনার প্রথমেই দেশের মালিকানা দেশের জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এর একটি বাস্তব চিত্র ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের কণ্ঠে প্রতিফলিত হয়েছে।

ইশতেহারে সাংবিধানিক সংস্কার, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, বেকারত্ব কমানো, উন্নয়নের সুষম বণ্টন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত, জাতীয় নেতাদের মর্যাদা নিশ্চিত, মেগা প্রকল্পগুলো অব্যাহত রাখা, নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, কোটা সংস্কার, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত, স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সরকারি চিকিত্সা সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি থাকবে। গত ১৩ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে ইশতেহারের জন্য প্রাথমিকভাবে ছয়জনের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। সদস্যরা হলেন বিএনপি থেকে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, গণফোরাম থেকে আ.ও.ম. শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্য থেকে ডা. জাহেদ উর রহমান, জেএসডি থেকে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী ও গণস্বাস্থ্য প্রধান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, খুব শিগগির নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের এবারের ইশতেহারের মূল বিষয়বস্তু হবে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন। তাতে থাকবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।

ইশতেহার প্রণয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নেতা জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করেই ইশতেহারের মৌলিক বক্তব্য দাঁড় করানো হবে। এক্ষেত্রে বিগত দিনে বাংলাদেশ সৃষ্টি ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অগ্রগামী জাতীয় নেতাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ভূষিত করার বিষয়টি ইশতেহারে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে কৃষক ও কৃষিস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পাঁচটি প্রস্তাব তৈরি করে খসড়া ইশতেহারে যুক্ত করার জন্য দিয়েছেন। এগুলো হলো-স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, বেকারত্ব নিরসন, বিচার ব্যবস্থার সংস্কার, কৃষিতে ভর্তুকি, দ্রব্যমূল্য ও শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের জন্য আমাদের ইশতেহারের একটা খসড়া করা হয়েছে। শিগগিরই এটা চূড়ান্ত করা হবে।

ইশতেহার কমিটি সূত্রে জানা যায়, চাকরিতে মেধাই একমাত্র মানদণ্ড, চাকরিতে আবেদনের ফি বা পে-অর্ডার থাকবে না, যানবাহনে বা গণপরিবহনে স্টুডেন্ট হাফভাড়া কার্যকর, সুলভ মূল্যে ইন্টারনেট, তরুণদের সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে প্রত্যেক উপজেলায় সমৃদ্ধ পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন ইত্যাদি ইশতেহারে থাকছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সব সরকারি করা হবে। বেসরকারি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের চাকরি পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করা হবে। শিক্ষক নিয়োগে শতভাগ মেধা অনুসরণ, শুধু দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতিতে কওমি শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরি মিলবে না। কেননা বেশিরভাগ চাকরিতে স্নাতক ডিগ্রি চাওয়া হয়। তাই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের চাকরিতে যোগ্য করতে দাওরায়ে হাদিসের নিচের তিন স্তরকে সমমানের স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

ইশতেহার প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, ইশতেহারে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকবে। ঐক্যফ্রন্ট যে ১১টি লক্ষ্য দিয়েছে, এই লক্ষ্যগুলোকে সামনে রেখেই ইশতেহার তৈরি হবে। এজন্য আমাদের কমিটি কাজ করছে।