সুদূর ব্রিটেনে আজ পার্লামেন্ট নির্বাচন। সেই নির্বাচনের ঢেউ এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশেও। কারণ এবারের নির্বাচনে লড়ছেন এক ঝাঁক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। যারা নিজগুণে ব্রিটেনে নেতৃত্বের লড়াইয়ে নেমেছেন। প্রথবারের মতো সর্বোচ্চসংখ্যক ১১ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিভিন্ন দল থেকে। এদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক। আছেন লেবার পার্টির এমপি রুশনারা আলীও। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১১ জনের মধ্যে লেবার পার্টি থেকে সাতজন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস (লিবডেম) থেকে তিনজন ও কনজারভেটিভ পার্টি থেকে একজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যে কারণে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কাজ করছে ভিন্ন উন্মাদনাও।
এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সর্বোচ্চসংখ্যক বাংলাদেশির প্রতিনিধিত্ব করার। লন্ডনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসন হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে টিউলিপ সিদ্দিক এবং ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে লেবার দলের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রূপা হক। টিউলিপ বিখ্যাত কিংস কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রীধারী। দীর্ঘদিন লেবার পার্টির সঙ্গে সংযুক্ত। আসন দুটিতে জয় ছিনিয়ে নেয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে লেবাররা। গতবার হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে লেবার দলের এমপি ছিলেন গ্লেন্ডা জ্যাকসন। লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে লেবার দলের প্রার্থী রূপা হক কিংস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক।
২০১০ সালে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী রুশনারা আলী ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারো একই আসনে প্রার্থী তিনি। লেবার পার্টি থেকে লন্ডনের অদূরে বেকেনহাম আসনে প্রার্থী হয়েছেন নারায়ণগঞ্জে জন্ম নেয়ার পর যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা মেরিনা আহমদ। লন্ডনের কাছের ওয়েলউইন অ্যান্ড হার্টফিল্ড আসনে লেবার দলের আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী আনোয়ার বাবুল মিয়া। তিনি লড়ছেন কনজারভেটিভ দলের চেয়ারম্যান ও মন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপের বিরুদ্ধে।
নর্থ ইস্ট হ্যাম্পশায়ার আসনে লেবার পার্টির আরেক প্রার্থী আমরান হোসাইন। চিকিত্সাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করা আমরানের জন্ম যুক্তরাজ্যেই। লুটনের রিগেইট অ্যান্ড বেনস্ট্যাড আসনে লেবার দলের প্রার্থী হয়েছেন আলী আকলাকুল।
লিবারেল ডেমোক্রাটস (লিবডেম) থেকে মনোনয়ন নিয়ে লড়ছেন তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী। এরা হলেন প্রিন্স সাদিক চৌধুরী, আশুক আহমদ ও মোহাম্মদ সুলতান। প্রিন্স সাদিক লড়ছেন নর্থ হ্যাম্পটন সাউথ আসনে। তিনি ২০০৭ সালে নর্থ হ্যাম্পটনশায়ার কাউন্সিল নির্বাচনে বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলর। আশুক আহমদ প্রার্থী হয়েছেন লুটন সাউথ আসনে। আর ওয়েলসের আর্ফন আসনে লিবডেমের অপর প্রার্থী হলেন মোহাম্মদ সুলতান।
ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি থেকে একমাত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মিনা রহমান। তিনি লড়ছেন লন্ডনের বার্কিং আসনে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার দলের মার্গারেট হজ শক্ত প্রার্থী।
১৯৯৪ সাল থেকে তিনি এ আসনের এমপি। আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা মিনা চাকরি করেন আবাসন সংস্থার ব্যবস্থাপক হিসেবে।
তাদের বাইরে স্কটল্যান্ডের অ্যাবার্ডিনশায়ারের বেনফ অ্যান্ড বুখান আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশি সুমন হক। যদিও তিনি লেবার পার্টির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আদালতে হাজিরা দেয়ায় তাঁর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় লেবার পার্টি।
এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটির বাংলাদেশি সমপ্রদায়ের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহও বেড়েছে। লেবার পার্টি অভিবাসীদের প্রতি একটু বেশি সহানুভূতিশীল হওয়ায় তাদের প্রতি বাংলাদেশিদের আগ্রহ বেশি। একইসঙ্গে পার্লামেন্টে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে বলেও আশাবাদী তারা।
এবারের নির্বাচনে প্রধান তিনটি দল থেকে ১১ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ এশীয় বংশোদ্ভূত মোট ১০২ জন এমপি পদে প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে ৩৬, লেবার ৩৪ ও লিবডেম ৩২ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। এসব প্রার্থীর বেশিরভাগই ভারতীয় এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। গত মেয়াদে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আটজন করে এমপি ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে।